আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরবিদায় জানানোর স্মরণীয় রাতে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে তৈরি হওয়া সব ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ ও জল্পনা-কল্পনা এক ঝটকায় উড়িয়ে দিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। গত ১৯ জুলাইয়ের সেই হাইভোল্টেজ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারে কোনো অজানা বা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেনি বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বিশ্বজয়ী এই ফরোয়ার্ড।
বাংলাদেশ সময় বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে বুয়েনস আয়ার্সের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে আর্জেন্টিনার আকাশী-নীল জার্সিকে চিরতরে বিদায় জানান ৩৯ বছর বয়সী মেসি। বিদায়ী ম্যাচে দলের তিন গোলেই অবদান রাখেন তিনি। ম্যাচে নিজে একটি গোল ও ২টি চমৎকার অ্যাসিস্ট করে নিজের ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন তিনি।
প্রায় তিন মাস আগে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে তরুণ ও শক্তিশালী স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় আর্জেন্টিনাকে। কিন্তু ম্যাচের ১২০ মিনিট জুড়ে স্প্যানিশদের একক আধিপত্য এবং আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের তুলনামূলক নিষ্প্রভ ও শান্ত উপস্থিতি দেখে দেশে-বিদেশে নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে। ভক্ত-সমর্থকদের একটি বড় অংশের ধারণা ছিল-ফাইনালের আগে বা ম্যাচ চলাকালে আর্জেন্টাইন শিবির কোনো অদৃশ্য শক্তি বা বাহ্যিক কারণে প্রভাবিত হয়েছিল।
বিদায়ী ভাষণে সমর্থকদের এই বহুল আলোচিত ক্ষোভ ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বের সরাসরি জবাব দেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের বরাতে মেসি বলেন, ‘শেষ বিশ্বকাপটা খুবই আবেগপূর্ণ ছিল। আমরা আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম এবং প্রায় সেটি অর্জন করেও ফেলেছিলাম। কিন্তু কেউ কেউ যা বলছে, ফাইনালে তেমন অস্বাভাবিক কিছুই ঘটেনি। আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়েছিলাম।’
ফাইনালে কাঙ্ক্ষিত ধার না থাকার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সেমিফাইনালের চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের কথা স্মরণ করেন মেসি। তিনি জানান, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানো ম্যাচটিই মূল ফাইনালের আগের দিনগুলোতে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে ক্লান্ত করে ফেলেছিল। মেসির ভাষ্য, ‘মূলত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিই আমাদের শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকে নিঃশেষ করে দিয়েছিল। আমরা কোনোমতে সেই ধকল সামলে উঠি।’স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স নিয়ে নানা আলোচনা হলেও মেসির বক্তব্যে স্পষ্ট-ম্যাচে কোনো গোপন ঘটনা বা ষড়যন্ত্রের কারণে দল প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারেনি, এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন। বরং তার মতে, শিরোপা জয়ের জন্য দল সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছিল। বরং টানা দুই বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠার পথে চরম শারীরিক ক্লান্তি ও স্পেনের দুর্দান্ত ফুটবলের কাছেই হার মানতে হয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।




