মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের অধিকার নাই রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলায় এক শতক জমি কেনার, অথচ যে কোন উপজাতি বাংলাদেশের যেকোনো জেলায় জমি কিনে বসবাস করার অধিকার রাখেন! এটি পরিষ্কার সংবিধান পরিপন্থী একটি নীতি!
পার্বত্য তিনটি জেলা বাংলাদেশের এক দশমাংশ! যেখানে বসবাস করে ৫২% বাঙ্গালি। আর এই বাঙালিরা সেখানে তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক। ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর “পার্বত্য শান্তি চুক্তি”র নামে যে অসম চুক্তি করা হয়েছে তা বাঙ্গালিদের অনেক সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।
তৎকালীন বিরোধী দল এই চুক্তির যে তুমুল বিরোধিতা করেছে, সরকারি দল হয়ে তারা তা বেমালুম ভুলে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেখলাম একজন বাঙালি এমপি সহ রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানের চারজন এমপি (একজন সংরক্ষিত মহিলা এমপি) যৌথভাবে পার্বত্যাঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে আয়কর মুক্ত রাখার জন্য আবেদন করেছে, যা বর্তমানে বলবৎ আছে। সরকারি চাকরি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপজাতি কোটা আছে। আমি এগুলোর বিরোধিতা করছি না।
আমার প্রশ্ন, যে সকল কারণে উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেয়া হচ্ছে সে সমস্ত কারণ কি ঐ এলাকায় বসবাসরত বাঙালিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
রাষ্ট্রের সকল নাগরিক রাষ্ট্রের সকল সাংবিধানিক অধিকার সমভাবে ভোগ করবে এবং রাষ্ট্রের সকল বিধি মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবে। কোন অঞ্চলের অনগ্রসরতার কারণে বিশেষ কোন সুবিধা দিতে চাইলে রাষ্ট্র ঐ এলাকার সকল নাগরিককে বিশেষ সুবিধার আওতায় আনবে।
কিন্তু বিস্ময়কর হলো পার্বত্য শান্তি চুক্তি। যে চুক্তি বলে উপজাতিদেরকে একচেটিয়া সুযোগ দেয়া হচ্ছে আর বাঙালিরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আচ্ছা,পাহাড়িরা যে পথে বা যানে চড়ে, যে বাজারে খরচ করে, যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ে বা যে ভুমিতে ফসল ফলায় এবং খায়, পার্বত্যাঞ্চলের বাঙালিরা কি তার বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে? যদি না হয় তাহলে নীতির ক্ষেত্রে এই বৈপরীত্য কেন?
তাই উপজাতি কোটা নয়, পার্বত্য কোটা চালু হোক এবং বিশেষ কোন সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে পার্বত্য সুবিধা চালু হোক। আমরা বৈষম্য চাই না,আমরা চাই- ‘সাম্যের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হোক’।












