ইসরায়েল নতুন করে ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে অথবা এককভাবেও এই হামলা চালানো হতে পারে বলে গতকাল সোমবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে ইসরায়েলে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগেই এ হামলা হতে পারে। তবে, নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হামলার আশঙ্কা তুলনামূলক কম।
তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইসরায়েল হায়োমের বরতা দিয়ে জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা ও সামরিক কার্যক্রম-সংক্রান্ত সহযোগিতা বজায় রাখছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সম্ভাব্য আগাম হামলা চালানোর পাশাপাশি ইরানের কোনো হামলার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে। তবে সংবাদপত্রটির মূল্যায়ন অনুযায়ী, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম। ইসরায়েল এখনো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখছে বলেও সংবাদপত্রটি জানিয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়ালা গত রোববার জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য উত্তেজনা বাড়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলে অতিরিক্ত সেনা ও সামরিক বিমান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে ওয়ালা জানিয়েছে, বর্তমানে ইসরায়েলজুড়ে প্রায় তিন হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তাদের মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পরিচালনাকারী সেনাদের পাশাপাশি পাইলট, সহায়তাকারী কর্মী এবং লজিস্টিক বা সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা সদস্যরাও রয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও মার্কিন সেনা ও সামরিক বিমান ইসরায়েলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে তার সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে। ওয়ালা জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাত অথবা আঞ্চলিক উত্তেজনার দ্রুত অবনতির জন্য প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। একই সময়ে তারা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখছে।
এদিকে, এসব প্রতিবেদন এমন সময় সামনে এল, যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রোববার বলেছেন, তেহরান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। তাঁর ভাষায়, এর লক্ষ্য হলো একটি ‘ন্যায্য সমাধানে’ পৌঁছানো।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর সময় কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত তুলে ধরেছিল। এসব শর্তের বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়টি।
পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের ওই শর্তগুলো গ্রহণ করেনি।



