কাউখালীতে ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বগতি, ড্রেন-নর্দমায় জমে থাকা পানিতে মশার প্রজনন শঙ্কা।

পিরোজপুরের কাউখালীতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ১৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে তিনজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত এ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৪৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।  এর মধ্যে উপজেলা সদর, উত্তর ও দক্ষিণ বাজার এবং উপজেলা পরিষদ চত্বরের বিভিন্ন ড্রেন-নর্দমায় জমে থাকা ময়লা পানি মশার প্রজনন নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৪৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এ পরিসংখ্যানে উপজেলার সব আক্রান্তের তথ্য নেই। অনেকে পিরোজপুর সদর, রাজাপুর ও বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকার সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা জানা যাচ্ছে না।

হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি আক্রান্তদের মাধ্যমে মশার সাহায্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়েও সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের মশারির ভেতরে রাখার নিয়ম থাকলেও অনেকে তা মানছেন না বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কর্মকার বলেন, বৃষ্টিপাত কমে এলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু হাসপাতাল পরিষ্কার রাখলেই হবে না; উপজেলা সদর, হাটবাজার, ঘাট, অফিস চত্বর, আবাসিক এলাকা ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

সরেজমিনে উপজেলা পরিষদ চত্বর, উত্তর বাজার ও দক্ষিণ বাজার ঘুরে বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা এবং ড্রেন-নর্দমায় জমে থাকা নোংরা পানি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে রয়েছে। এসব স্থানে মশার বংশবিস্তারের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

তাঁদের অভিযোগ, বাজারের ড্রেনসহ বিভিন্ন নালা-নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন ঘটলে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তবে এসব স্থানে এডিস মশার প্রজনন হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির আশপাশ, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি ড্রেন-নর্দমা পরিষ্কার রাখা, পানি নিষ্কাশন সচল করা এবং মশার বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে আক্রান্ত রোগীকে মশারির ভেতরে রাখলে মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো যায়।

স্থানীয়দের দাবি, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বাজার পরিচালনা কমিটি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ড্রেন-নর্দমা পরিষ্কার, বদ্ধ পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর উদ্যোগ চান তাঁরা।

কাউখালীতে ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে মাঠপর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কতটা জোরদার করা হচ্ছে, এখন সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।

 

 

 

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top