আধুনিক কৃষিতে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের ব্যাপক ব্যবহার হলেও এখনও ব্যতিক্রমী পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে আলোচনায় রয়েছেন কৃষক আছিম উদ্দিন মিয়া। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসা ঘোড়া দিয়ে হালচাষের ঐতিহ্য ধরে রেখে তিনি নিয়মিত জমি চাষ করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুঙ্গা খাতা গ্রামের আছিম উদ্দিন মিয়া একটি ঘোড়া দিয়ে ঘণ্টায় প্রায় এক থেকে দেড় বিঘা জমি চাষ করতে সক্ষম হন। কম খরচে এবং তুলনামূলক দ্রুত জমি প্রস্তুত হওয়ায় অনেক কৃষক তার কাছে জমি চাষ করিয়ে নিচ্ছেন।
আছিম মিয়া জানান, একসময় গ্রামবাংলায় ঘোড়া ও গরু দিয়ে হালচাষ ছিল খুবই পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু যান্ত্রিক কৃষিযন্ত্রের প্রসারের কারণে সেই চিত্র এখন প্রায় বিলুপ্ত। তবুও তিনি ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য ঘোড়া দিয়ে হালচাষ করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, যেখানে কৃষিযন্ত্র সহজে প্রবেশ করতে পারে না বা স্বল্প পরিসরের জমি রয়েছে, সেখানে ঘোড়া দিয়ে হালচাষ এখনও কার্যকর। এছাড়া এতে জ্বালানি খরচও নেই, ফলে অনেক কৃষক এই পদ্ধতিকে সাশ্রয়ী বলে মনে করেন।
গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে কৃষক আছিম মিয়ার উদ্যোগ স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রযুক্তির এই যুগেও তার ঘোড়ার হাল যেন অতীতের কৃষি সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।












