‘ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকা আদায়’, লক্ষ্মীপুর সদর থানার সাবেক ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরে ২০১৮ সালে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আটক, শারীরিক নির্যাতন, বিদ্যুৎ শক দেওয়া এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন সাবেক ছাত্রনেতা মো. আব্দুর রহমান বিপ্লব। এ ঘটনায় তৎকালীন লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন আব্দুর রহমান বিপ্লব। তিনি লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক ক্যাম্পাস সেক্রেটারি ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে বিপ্লব বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে তৎকালীন ওসি লোকমান হোসেনের নির্দেশে পুলিশ লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে। এ সময় তাঁর চোখ বেঁধে হাতকড়া পরানো হয়। পরে থানায় নিয়ে তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিপ্লবের দাবি, ২০১৯ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে বিদ্যুৎ শক দেওয়া হয়। পরে গভীর রাতে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে গাড়িতে করে রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধে নিয়ে যান। সেখানে মারধরের পাশাপাশি হত্যার ভয় দেখিয়ে তাঁর শেষ ইচ্ছার কথা জানতে চাওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, পরে তাঁকে রামগতি থানায় নিয়ে নির্যাতন ও শরীরে ইনজেকশন পুশ করা হয়। এরপর লক্ষ্মীপুর সদর থানায় নেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে তাঁকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

অর্থ আদায়ের বিষয়ে বিপ্লব অভিযোগ করেন, তাঁকে ক্রসফায়ার থেকে বাঁচাতে তাঁর বাবার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করেন তৎকালীন ওসি লোকমান হোসেন। পরে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ৭০ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তাঁর দাবি, সকাল ১০টার আগেই তাঁর বাবার কাছ থেকে ওই টাকা নেওয়া হয়। এ সময় তাঁর বাবা, মা ও নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

বিপ্লবের ভাষ্য, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সাত থেকে আটটি মামলায় আসামি দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এর মধ্যে দুটি মামলায় তাঁকে মোট ২০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এসব নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার কারণে তিনি শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন বিপ্লব। তাঁর পরিবারেরও কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সংগঠনের ছাত্রনেতা ও কর্মীরা নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা চাকরিতে বহাল রয়েছেন।

এ ঘটনায় তৎকালীন ওসি লোকমান হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, তাঁদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, লোকমান হোসেন বর্তমানে পুলিশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

সরকার সব সময় শিক্ষার্থীদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে: ছাত্রশিবির সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিগবা বললেন, আমাদের

Scroll to Top