সাম্প্রতিক
বেড়িবাঁধের বরাদ্দের এক টাকাও লুটপাট করতে দেওয়া হবে না: নাহিদ ইসলাম সোমবার শোক দিবস পালন করবে বিএনপি শেখ হাসিনার অন্তিম যাত্রা ফ্যাসিস্টের দোসর আইনুল হলেন সামাজিক বিজ্ঞানের ডিন, ক্যাম্পাসজুড়ে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই: চিফ প্রসিকিউটর রাতভর বৃষ্টিতে ‘ডুবল’ রাজধানী, ভোগান্তিতে নগরবাসী লজ্জা থাকলে শেখ হাসিনা ওই মুখ দেখাতেন না: সারজিস ‘প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন, না হলে মূল্য দিতে হবে’: যুক্তরাষ্ট্রকে গালিবাফের হুঁশিয়ারি রেফারিকে মেসি বললেন, ‘আমাকে সম্মান দিয়ে কথা বলো’

গোয়ালন্দে শিক্ষকদের সহায়তায় চলছে অবৈধ গাইড বইয়ের রমরমা বাণিজ্য

যে শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রীদের সঠিক পথ দেখাবেন সেই শিক্ষকরাই কিছু টাকার বিনিময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ভুল পথে ঠেলে দিচ্ছেন। নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির গাইডবই ও ব্যাকরণ কিনতে বাধ্য করছেন। শিক্ষকেরা প্রকাশকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা কমিশন নিয়ে বইগুলো বিক্রি করতে সহায়তা করছেন।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার সরকারি দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ সরকারি অনুমোদিত অন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে কয়েকজন শিক্ষক স্বীকার করেন তারা স্কুলের কিছু সরঞ্জাম কিনে সহায়তা প্রদান করেন।
বেশ কয়েকজন সহকারী শিক্ষক বলেন, এসব বিষয়ে ডিল করেন প্রধান শিক্ষক। অন্য শিক্ষকদের লামছাম একটা কিছু দেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় ও  প্রশাসনের যথাযথ তদারক না থাকায় এই উপজেলায় গাইড বইয়ের জমজমাট ব্যবসা করছে প্রকাশনীগুলো।
গোয়ালন্দ উপজেলা নাজির উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,  গোয়ালন্দ প্রপার হাই স্কুল সহ কয়েকটি স্কুলের সিলেবাস স্কুলের নাম নেই ভিতরের স্টাইল অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষার সিলেবাসের Completing Story, Application, letter Ges composition. এর স্থানে ৩, ৫, ৭, ৯ অর্থাৎ এভাবে সংখ্যা লেখা অথচ আগের সিলেবাস এ সমস্ত Paragraph, Letter বা  Application এর নাম লেখা থাকতো।
ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এগুলো lecture grammar এর পৃষ্ঠা নাম্বার। আগে  Advance Nobodut বা বিভিন্ন কোম্পানির গাইড থাকলেও এখন যে কোম্পানির গাইড সেই কোম্পানির গ্রামার।
কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী জানান, এই গাইড থেকে উত্তর না লিখলে ভালো নাম্বার পাওয়া যায় না। তাছাড়া পরীক্ষার সময় স্যার যে মডেল প্রশ্নগুলো দাগিয়ে দেয় বা পরীক্ষায় আসে, সেগুলো এই গাইড থেকেই। তাই তারা বাধ্য হয় এ কোম্পানির গাইড এবং গ্রামার কিনতে। এছাড়া যে সমস্ত শিক্ষক প্রাইভেট পড়ান তারা ওই গাইড থেকেই পড়া দেন।
অধিকাংশ অভিভাবক হতাশা জানিয়ে বলেন, বাচ্চাদের পড়াশোনা আর নেই, এখন সবকিছু হয়ে গেছে বাণিজ্যিক। দোকান থেকে লেকচার গাইড কিনতে হয় এবং গ্রামার লেকচার কিনতে হয়। অন্য গ্রামার বা গাইড ৪০-৫০ শতাংশ ছাড় দিলেও লেকচার গাইড মাত্র ১০ শতাংশ ছাড়ে কিনতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ তার থেকে একটা বড় অংকের টাকা একশ্রেণির অসাধু শিক্ষকদের দিতে হচ্ছে।
সিলেবাসে স্কুলের নাম থাকলেও এবারকার সিলেবাসে স্কুলের নাম নেই। অভিযোগ রয়েছে সিলেবাস গুলো করে লেকচার গাইড কোম্পানি, সেগুলো আবার বিক্রি করে টাকা নেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
কয়েকজন অভিভাবক জানান, লেকচার গাইডের একজন প্রতিনিধি গার্লস স্কুলের সামনে ভাড়া থাকেন। তার কাজ হচ্ছে সকাল থেকে সারাদিন উপজেলার বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে খোঁজ খবর নেওয়া। অথচ গোয়ালন্দ উপজেলার পরীক্ষার ফলাফল দিনের পর দিন খারাপ হচ্ছে।
সরকারী গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের  সমস্যা আরও প্রকট সেখানে গাইড কেনা নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে ফলে গাইড কেনা নিয়ে ছাত্র ছাত্রী সমস্যায় থাকেন। তবে লেকচার কোম্পানির গাইড কিনতে হয় ফলে ইংরেজির মৌলিক ব্যাকারণ শেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ছাত্র ছাত্রী। এর ফলাফল পড়ছে বোর্ড পরীক্ষায় এই কলেজের বোর্ড ফলাফল দিনের পর দিন খারাপ হচ্ছে।
দেশের আইন এবং আদালতের রায় অনুযায়ী প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত গাইড ও নোটবই নিষিদ্ধ। এ পর্যায়ের নোট ও গাইড বই মুদ্রণ, বাঁধাই, প্রকাশনা ও বিক্রয় দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। কিন্তু ওই আইন লঙ্ঘন করেই বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন প্রকাশনীর গাইড।
গোয়ালন্দ প্রপার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা কাউকে কোন গাইড বা গ্রামার কিনতে বাধ্য করি না। তারা যে কোন গাইড বা গ্রামার কিনতে পারে। তবে তার স্কুলের সিলেবাসেও কোন প্যারাগ্রাপ বা লেটারের নাম লেখা নেই পৃষ্ঠা লেখা রয়েছে। তবে যে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী যত বেশি টাকার অংক ততবেশি বলে জানা যায়।
সরকারি দুই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, এগুলো সহকারী শিক্ষকদের দ্বায়িত্বে ছিল তারা করেছে। তবে সরকারী গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ নজির হোসেন মোল্লা বলেন, আমি মাত্র চার মাস আগে কলেজের দ্বায়িত্ব পেয়েছি। আমি চাই আমার কলেজে সবচাইতে ভালো বই এবং গ্রামার পাঠ্যসুচিতে অন্তর্ভুক্ত হোক। আগে যাইহোক আমি সবার সহায়তা কামনা করি।
যোগাযোগ করলে লেকচার পাবলিকেশনের বিক্রয় প্রতিনিধি লিটন বলেন, ‘শিক্ষকদের টাকা বা উপঢৌকন দেওয়ার ব্যাপারটা এজেন্ট ও কোম্পানি সরাসরি করে থাকে। আমি স্কুল গুলোতে বই পৌঁছে দেই। আমাদের কোম্পানি পুরাতন তাই এর চাহিদা রয়েছে। তবে জানা যায়, এই লিটনের মাধ্যমেই এই কন্ট্রাক্ট হয়। প্রথমে অর্ধেক টাকা দেওয়া হয় বিক্রির পর বছরের মাঝামাঝি সময়ে অর্ধেক দেওয়া হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। আগেও তারা বিভিন্ন কোম্পানির সাথে কথা বলতো। কিন্তু একই কোম্পানির গাইড গ্রামার চালানোর বিষয় জানতাম না। আমি তাদের সাথে কথা বলে গ্রামার উন্মুক্ত করার চেষ্টা করবো।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :