চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন রোধে দুটি প্রকল্প, দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ

কুড়িগ্রামের চিলমারীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন রোধে দুটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।  ব্রহ্মপুত্রে যে দুটি প্রকল্প চলমান রয়েছে, একটি প্রায় ৯০০ কোটি, অপরটি ৮০০ কোটি টাকার। সেটি যদি আমরা ব্লক দিয়ে করতে পারি, তাহলে আর ভাঙন হবে না। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
১৭ বছরে ওমরা (আওয়ামী লীগ) দেশটাক শ্যাষ করছে’  কাচকোল এলাকায় নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার নদ-নদীর ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী। পরে চিলমারী বন্দর এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি নদীভাঙন রোধে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন,
বাঁধ দিলে সবাই উপকৃত হবে,
কে কোন দল করে, নদীভাঙ্গন কিন্তু সেটা দেখবে না: প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ
দুইটা কাজ হলো, জেলার নদীভাঙন রোধ এবং স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ।
তিনি বলেন, নদীভাঙনের কারণে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ বসতভিটা, আবাদি জমি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা হারাচ্ছেন। বিশেষ করে চিলমারী উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকাগুলো ( কাঁচকোল, বিশারপাড়া, চিলমারী ইউনিয়ন, বড়চর, চরশাখাহাতি, উলিপুর উপজেলায় বিভিন্ন চর) ভাঙন দীর্ঘদিনের সমস্যা। এ সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কোনো মানুষের ঘরবাড়ি, হাট-বাজার, মসজিদ, মন্দির কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন নদীতে বিলীন হয়ে না যায়, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ব্রহ্মপুত্রের তীরে কোন কোন প্রকল্প চলমান আছে, সেগুলো পরিদর্শন করে স্থায়ী প্রকল্প নিতে হবে। ইতোমধ্যে এখানে আমরা কিছু জরুরি প্রকল্পে কাজ শুরু করেছি।
জরুরি ভাঙন ঠেকাতে জিওব্যাগ এবং স্থায়ী প্রকল্পের জন্য ব্লকের কাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতির প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলছেন, আমরা দুর্নীতিকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসব, তারপর জিরো পর্যায়ে নিয়ে আসব। বস্তা ফেলবে ১০০টা আর গুনবে ২০০টা, সেই সুযোগ আর নেই। বস্তার ওজন কমানোর সুযোগ নেই। এগুলো আপনারা বুঝে বুঝে নেবেন। এগুলোর প্রত্যেকটা জিনিস আপনাদের টাকার, ইঞ্জিনিয়ার আর ঠিকাদারের ওপর ছেড়ে দেবেন না।’
নদীভাঙন রোধে কোনো ধরনের দলীয় বিবেচনা করা হবে না উল্লেখ করে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ভাঙনকবলিত মানুষের পাশে সরকার রয়েছে। ইতোমধ্যে কুড়িগ্রামের প্রায় ১০০টি ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। যেসব এলাকায় আরও কাজের প্রয়োজন রয়েছে, সেসব স্থানেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদ রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্প শিগগিরই
চিলমারী সফরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে টেকনিক্যাল কমিটি কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “তিস্তা একটি বড় প্রকল্প। একটি প্রকল্প একদিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমাদের সরকারের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। আমাদের কিছুদিন সময় দিন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করব।”
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও যোগাযোগসহ তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এদিন প্রতিমন্ত্রী চিলমারী বন্দর এলাকার নদীভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। নদীর গতিপ্রকৃতি, ভাঙনের তীব্রতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন।
চিলমারী বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং নদীতীরবর্তী জনবসতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

” সবাই ভালো থাকবেন, সবাইকে মোর মতো মুই ছালাম দিনুং”
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজার রহমান, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান, সদস্য সচিব সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব ও শফিকুল ইসলাম বেবু , চিলমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল বারী সরকার, সদস্য সচিব আবু হানিফা, সদস্য বদরুদ্দোজা বুলু সহ উপজেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ।
পরে নৌপথে চিলমারীর কাচকোল, উলিপুরের নামাজের চর, রৌমারীর সুখেরবাতি ও রাজিবপুরের কোদালকাটি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
পরে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী গাইবান্ধায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান দুটি প্রকল্প পরিদর্শন করবেন বলে জানান।
বদরুদ্দোজা বুলু

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন