হাসপাতালটির ব্যবস্থাপক মো. আসিফ হামজা জানান, হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকেরা রাজিয়ার প্লাসেন্টা অপসারণসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ায় বর্তমানে মা সুস্থ আছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম নেওয়ায় নবজাতককে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (এনআইসিইউ) রাখা হয়েছে।
হাসপাতালটির আরেক ব্যবস্থাপক মো. হুমায়ন কবির বলেন, ‘ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সার্ভিস লেনে অবৈধ দোকানপাট, অবৈধ পার্কিং, উল্টোপথে যান চলাচল এবং নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহনের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে জরুরী রোগী বহনকারী যানবাহনও প্রায়ই আটকে পড়ে। এতে মাত্র দুই মিনিটের পথ অতিক্রম করতে অনেক সময় ১৫ থেকে ২০ মিনিট, কখনো তারও বেশি সময় লাগে। গতকালের ঘটনা ব্যতিক্রম হলেও এটি প্রতিদিনের দুর্ভোগের ভয়াবহ বাস্তবতাই সামনে এনেছে।’
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সাভার বাজার বাস স্ট্যান্ড এলাকার সার্ভিস লেন ও ফুটপাতের বড় অংশজুড়ে হকারদের অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। অনেক স্থানে দোকানপাট ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কের অংশও দখল করে রেখেছে। ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করছেন, এতে যানবাহনের গতি আরো ধীর হয়ে পড়ছে।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি শুনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘সাভারের অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ ও যানজট নিরসনে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। এরপরও যত্রতত্র অবৈধ পার্কিং এবং অটোরিকশার দাপটে পথচারীরা দুর্ভোগে পড়ছেন। এই কারণেই একজন প্রসূতি সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে রাস্তায় সন্তান প্রসব করেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার খোঁজ খবর নিয়েছি। মা বর্তমানে সুস্থ থাকলেও নবজাতকটিকে এনআইসিউতে রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষনিকভাবে তাদের খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে এবং যদি কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হয় সে ক্ষেত্রেও আমরা তাদের পাশে থাকব।’
ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে এবং অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সড়কে সন্তান প্রসবের ঘটনাটি জানার পর বিষয়টি ট্রাফিক বিভাগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’