নওগাঁর মহাদেবপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী অলিপ দত্ত হত্যা: প্রধান সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

নওগাঁর মহাদেবপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী অলিপ দত্ত হত্যা ও স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন আন্তঃজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী রনি ওরফে রনি প্রামাণিককে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে আত্রাই থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রনি প্রামাণিক নাটোরের উত্তর আলাইপুর এলাকার আব্দুর রাজ্জাক ওরফে নামাজ আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি ও দস্যুতার পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব মামলার মধ্যে স্বর্ণ চুরি ও ডাকাতিসংক্রান্ত মামলাও রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর মহাদেবপুর থানা এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী অলিপ দত্ত দোকান বন্ধ করে মূল্যবান স্বর্ণ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে স্বর্ণ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় মহাদেবপুর থানায় হত্যা মামলা করা হয়। ঘটনার পর নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, মহাদেবপুর থানা পুলিশ ও স্পেশাল ব্রাঞ্চ তদন্ত শুরু করে। পরে তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) যুক্ত হয়।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় মহাদেবপুর থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয় ব্রতের নেতৃত্বে দলটি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে।
তদন্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তি, নওগাঁ শহরের ডিজিটাল সার্ভিল্যান্স ক্যামেরার ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে রনি প্রামাণিকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি করেছে পুলিশ।
পরে শুক্রবার রাতে আত্রাই থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন ও পাঁচটি ক্যাপ জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য রনি প্রামাণিক ৩৩ থেকে ৩৪টি সিম ব্যবহার করেছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি ও দস্যুতার পাঁচটি মামলা রয়েছে।
মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, অলিপ দত্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার রনিকে জিজ্ঞাসাবাদসহ তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এবং অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, অলিপ দত্ত হত্যাকাণ্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। জেলা পুলিশ, ডিবি, মহাদেবপুর থানা, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, পিবিআই ও সিআইডির সমন্বয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। প্রযুক্তিগত তথ্য ও ডিজিটাল সার্ভিল্যান্সের সহায়তায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

পর্যটন কেন্দ্র চর কুকরী-মুকরী খেয়াঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়: সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি যাত্রী ও পর্যটক, হুমকির মুখে পর্যটন শিল্প

ভোলার অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকরী-মুকরী ,ঢালচরের

Scroll to Top