একসময়ের সচ্ছল মানুষ আব্দুস সামাদ (৫৮)। জীবনের পরন্ত বিকেলে এসে আজ তিনি পুরোপুরি নিঃস্ব, গৃহহীন ও গুরুতর অসুস্থ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে অপরাধ দমনে সহায়তা করাই যেন তার জীবনে চরম কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে অদ্যবধি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) এর ‘ইনফরমার’ ও নিজেকে কবি দাবি করা এই ব্যক্তি এখন স্থানীয় সন্ত্রাসী চক্রের প্রতিহিংসার শিকার।
নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর গ্রামের মৃত মালা বক্স সরদারের ছেলে আব্দুস সামাদ দুই সন্তানের জনক। অভিযোগ উঠেছে, ইনফরমার হিসেবে কাজ করার জেরে স্থানীয় এক প্রভাবশালী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তার ওপর দফায় দফায় তাণ্ডব চালায়। বসতবাড়ি ভাঙচুর, ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস এবং কোটি টাকারও বেশি মূল্যের কৃষিজমি হাতিয়ে নিয়ে তাকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয়।
ভিটেমাটি হারিয়ে ছিন্নমূল সামাদ এখন স্থানীয় পরানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর বাজারে আফজাল হাজীর দোতলায় মাসিক ৫০০ টাকা ভাড়ায় একটি কক্ষে বসবাস করছেন। চরম আর্থিক অনটন ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তার পরিবারও আজ বিচ্ছিন্ন। এক ছেলে জীবনসংগ্রামে ঢাকায় অবস্থান করছেন, আর ছোট ছেলে আশ্রয় নিয়েছে মামার বাড়িতে।
অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব করার পাশাপাশি সামাদকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তার ভাষ্য, শত্রুতাবশত তাকে কৌশলে ফরমালিন বিষ প্রয়োগ করে শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক অসুস্থ বানিয়ে ফেলা হয়েছে। এমনকি এখনও প্রকাশ্যে তাকে বিষাক্ত রাসায়নিক বা ফরমালিন দিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মাথার ওপর নিজস্ব ছাদ নেই, শরীরে থাবা বসিয়েছে মারাত্মক ব্যাধি, আর মনে প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফিরছে প্রাণভয়। জীবনের এই চরম অসহায় মুহূর্তে দাঁড়িয়ে সুবিচারের আকুতি জানিয়েছেন ৫৮ বছর বয়সী এই কবি। তিনি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।


