নওগাঁর মান্দায় পরকীয়ার জেরে শ্যালকের হাসুয়ার কোপে আহত দুলাভাইয়ের মৃত্যু

নওগাঁর মান্দায় পরকীয়া ও পারিবারিক বিরোধের জেরে শ্যালকের ধারালো হাসুয়ায়ের কোপে গুরুতর আহত দুলাভাই মামুন (৪০) মারা গেছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে, গত শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের শামুকখোল গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত মামুন ওই গ্রামের কটা’র ছেলে এবং পেশায় একজন কাঠ ব্যবসায়ী।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার বিকেলে নিহতের মরদেহ তাঁর নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন একজন মাদকসেবী। প্রায় ১০ বছর আগে এক মাদক মামলায় ইসমাইল কারাগারে গেলে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দুলাভাই মামুনের পরকিয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইসমাইল জেল থেকে বের হয়ে বিষয়টি জানতে পারলে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে শালিস-বৈঠক হয়। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র উত্তেজনা চলছিল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বিদ্যুৎ ও স্থানীয়রা জানান, হামলার কিছুদিন আগে থেকে ইসমাইল তাঁর দুলাভাই মামুনের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি আসছিলেন এবং নির্মাণাধীন একটি বাড়ি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছিলেন। এমনকি ইসমাইলের বোন পরিস্থিতি শান্ত করতে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও ইসমাইল তা না মেনে উল্টো নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
এসব বিরোধের জের ধরে গত শনিবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুনের ওপর হাসুয়া নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান ইসমাইল। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,“নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সোমবার সন্ধ্যায় মান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইসমাইল পলাতক রয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে মামুনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এলাকায় শোক ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অভিযুক্ত ইসমাইলের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন