বেনাপোল কাস্টমসে কর্মকর্তা লাঞ্ছনার পর যুগ্ম কমিশনারের কক্ষে তালা নেমপ্লেড উধাও

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের যুগ্ম কমিশনার সরাফুদ্দিন আহমেদ তাঁর অধীনস্থ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) আরমানকে কাজের অবহেলার জন্য শারীরিক নির্যাতন করার পর থেকে অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন। গত ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্থলবন্দরের ৪১ নম্বর শেডে সরাসরি তাঁকে লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনার পর থেকে বেনাপোল স্থলবন্দরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে আজ সরেজমিনে স্থলবন্দরের পরিচালক রুহুল আমিনের কাছে ভিডিও ফুটেজ দেখতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি ভিডিও ফুটেজ এভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ ছাড়া দিতে পারি না।” তবে এ ধরনের একটি অনভিপ্রেত ঘটনা রাগের বশবর্তী হয়ে ঘটেছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

এদিকে বেনাপোল কাস্টমস হাউজে যুগ্ম কমিশনার সরাফুদ্দিন আহমেদের সাাৎকার নিতে গেলে দেখা যায় তাঁর অফিস কে তালা ঝুলানো এবং যেখানে নেমপ্লেট ঝুলানো ছিল, সেখানে নেমপ্লেটটিও নেই। কাস্টমসের বারান্দায় থাকা কয়েকজন সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধি জানান, ওই ঘটনার পর থেকেই কটিতে তালা ঝুলছে।

আজ বেলা ৩টা থেকে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের ৬ তলায় ইচ্ছামতী কনফারেন্স রুমে কাস্টমস কমিশনার হাউজের রাজস্ব সহকারী ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে জানতে সহকারী কমিশনার রাহাত সাহেবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এখন কিছু বলা যাবে না। আমাদের কমিশনার মহোদয় সিদ্ধান্তের কথা জানালে তারপর জানানো সম্ভব হবে।”

সরাফুদ্দিন সাহেবের রুমে তালার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হয়তো ছুটিতে থাকতে পারেন।” রাহাত সাহেব আরও জানান, ৪১ নম্বর শেডের ঘটনা নিয়ে এআরও আরমান এনবিআরে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদন শুনানির পর কী সিদ্ধান্ত হয় তা জানা যাবে।

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ বেলা ৩টা থেকে আবারও কাস্টমস হাউজে মিটিং চলায় আমদানি-রপ্তানি পণ্যের খালাস কাজ বন্ধ ছিল। কাস্টমস হাউজের সামনে সিঅ্যান্ডএফ সদস্যদের ফাইল হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top