ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পেঁয়াজের খোসা পরিষ্কার করতে উঠানে ফ্যানের সংযোগ দেওয়া বৈদ্যুতিক মাল্টিপ্লাগে হাত দিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ফারদিন নামে দুই বছর দুই মাস বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চুকিনগর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু ফারদিন চুকিনগর গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী তারিকুল ইসলাম মন্ডলের ছেলে। আদরের একমাত্র শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ির পরিবেশ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার সকালে নিহত শিশুর দাদা মো. তুরাপ মন্ডল ও দাদি সালেহা বেগম বাড়ির উঠানে পেঁয়াজ পরিষ্কার করছিলেন। পেঁয়াজের খোসা ও ময়লা বাতাসে উড়িয়ে পরিষ্কার করার জন্য সেখানে একটি বৈদ্যুতিক ফ্যান স্থাপন করা হয়েছিল। ফ্যানটি চালানোর জন্য বৈদ্যুতিক মাল্টিপ্লাগে সংযোগ দেওয়া হয়।
এ সময় দাদা তুরাপ মন্ডল প্রায় ১০ মণ পেঁয়াজ নিয়ে সাতৈর হাটে বিক্রি করতে চলে যান। বাড়িতে দাদি সালেহা বেগম পেঁয়াজ পরিষ্কারের কাজ করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় পেছন থেকে খেলতে খেলতে শিশু ফারদিন সেখানে এসে পৌঁছায়। একপর্যায়ে সে ওই বৈদ্যুতিক মাল্টিপ্লাগের একটি পয়েন্টে হাত বা আঙুল দেয়। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যায় শিশুটি।
ঘটনাটি বুঝতে পেরে পরিবারের লোকজন দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরে পাঠান।
পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশু ফারদিনকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাত্র দুই বছর দুই মাস বয়সী শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
নিহত শিশুর দাদা মো. তুরাপ মন্ডল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ফারদিন আমার আদরের নাতি ছিল। আমি পেঁয়াজ হাটে বিক্রি করার জন্য নিয়ে যাই। পরে শুনি আমার নাতি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। আমার ছেলে ওর জন্য মাত্র তিন দিন আগে সৌদি আরব থেকে বাড়িতে এসেছে। এখন ছেলেকে কীভাবে সান্ত্বনা দেব, বুঝতে পারছি না।
নিহত শিশুর নানা মিজানুর রহমান বলেন, ফারদিন আমাদের চোখের মণি ছিল। এত ছোট বয়সে এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে, কখনো ভাবিনি। ওকে হারানোর কষ্ট আমরা কীভাবে সহ্য করব জানি না। ওর বাবা-মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, শিশুটির বাবা দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর মাত্র কয়েকদিন আগে বাড়িতে এসেছেন। বাবার দেশে ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই সন্তানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিশু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় শোকের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক মাল্টিপ্লাগ, খোলা সংযোগ ও শিশুদের নাগালের মধ্যে থাকা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে বাড়িতে শিশুদের চলাচলের জায়গায় বৈদ্যুতিক সংযোগ ও মাল্টিপ্লাগ নিরাপদ স্থানে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।




