ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিতর্কের আহ্বান জানানোর জবাবে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে সংসদে এসে মুখোমুখি আলোচনার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। হরিয়ানার কার্নালে বিজেপির এক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, রাস্তায় বিশৃঙ্খলা না করে সংসদে এসে বিতর্কে অংশ নেয়া উচিত রাহুলের।
কার্নালের ওই জনসভা ও পদযাত্রায় বিরোধী দলনেতাকে আক্রমণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘আমি রাহুল গান্ধীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছি। আপনি প্রধানমন্ত্রীর (মোদি) সঙ্গে আলোচনা করতে চান? তাহলে তাকে একটি চিঠি লিখুন। আমরা সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে প্রস্তুত। আপনার অভিযোগে যদি কোনো যুক্তি ও সততা থাকে, তবে রাস্তায় না নেমে সংসদে আসুন। মুখোমুখি বিতর্ক হোক।’
কংগ্রেসের নির্বাচনী ব্যর্থতা তুলে ধরে অমিত শাহ প্রশ্ন করেন, ২০১৪ সালে এসআইআর কোথায় ছিল? সে সময় কিংবা পরবর্তী ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস কেন হেরেছে? এমনকি হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনেও এসআইআর ছিল না, অথচ কংগ্রেস পরাজিত হয়েছে।
অমিত শাহের অভিযোগ, ‘আপনার উদ্দেশ্য সংসদ চালু রাখা নয়, বরং রাস্তায় লোক জড়ো করে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য তৈরি করা। সংসদ বয়কট করে উত্তেজনা ছড়ানোই কংগ্রেসের কৌশল।’
এসআইআর থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের ‘ঘুসপেটিয়া’ বা অনুপ্রবেশকারী হিসেবে উল্লেখ করে অমিত শাহ দাবি করেন, রাহুল গান্ধী আসলে নিজের ভোটব্যাংক ও অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতেই সমাবেশ করছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’—অর্থাৎ চিহ্নিত করা, বাদ দেয়া ও বিতাড়ন করা।একই সঙ্গে অমিত শাহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাহুল রাস্তায় লোক নামিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইলে বিজেপি কর্মীরাও জবাব দিতে প্রস্তুত।
বিরোধী জোটের দিল্লির রামলীলা ময়দানের সমাবেশকে কটাক্ষ করে অমিত শাহ বলেন, সেখানে ১০ লাখ মানুষের জমায়েতের দাবি করা হলেও ৭০ হাজার মানুষের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মাঠের অর্ধেক অংশও পূর্ণ হয়নি। পাশাপাশি, বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুলের ঘনঘন বিদেশ সফরের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়কমন্ত্রী কিরণ রিজিজু কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে রাজনৈতিকভাবে সফল হওয়ার জন্য সাত দফার একটি পরামর্শপত্র দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ রিজিজু লেখেন— ঘনঘন গোপনে বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে ভারতে রাহুলের বেশি সময় কাটানো উচিত; বিদেশে গিয়ে ভারতবিরোধী শিবিরের লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ বন্ধ করতে হবে; সংসদে বেশি সময় দেয়া এবং দলীয় সাংসদদের মুক্ত আলোচনায় অংশ নিতে দেয়া উচিত; প্রবীণ নেতাদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জন করা ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ; এবং বিজেপি, আরএসএস ও প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি অন্ধ ঘৃণা বন্ধ করে বিজেপিকে শত্রু নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শও দেন তিনি।


