শিক্ষার্থী ১৯৯, উপস্থিত ১১ জন, হঠাৎ হাজির ইউএনও— শোকজ দুই শিক্ষককে, কপাল পুড়ল প্রতিষ্ঠান প্রধানেরও

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ভেড়াভেড়ী কামাল উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসায় হঠাৎ পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। পরিদর্শনের দিন মাদ্রাসার ১৯৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল মাত্র ১১ জন। এ ছাড়া ১৫ জন শিক্ষকের মধ্যে দুজন ছুটি ছাড়াই অনুপস্থিত ছিলেন। এসব ঘটনায় দুই শিক্ষকসহ মাদ্রাসার সুপারকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। সোমবার (২ নভেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (বরিশাল) ড. মো. ইসমাইল হোসেনের সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ অক্টোবর নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ইউএনও মো. আরিফুর রহমান ভেড়াভেড়ী কামাল উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন। পরে তিনি পরিদর্শনের একটি প্রতিবেদন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিদর্শনের দিন মাদ্রাসার মোট ১৯৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল মাত্র ১১ জন। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির হার ছিল ৯৫ শতাংশ। এ ছাড়া ১৫ জন শিক্ষকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ১৩ জন। বাকি দুজন শিক্ষক ছুটি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। অনুপস্থিত শিক্ষকদের একজন মো. মোখলেসুর রহমান শিক্ষক হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর করেছেন। মাদ্রাসার কোনো শ্রেণিতেই শিক্ষার্থীদের হাজিরা নেওয়া হয় না। এমনকি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি পাওয়ার বিষয়েও প্রতিষ্ঠানের অফিস নথিতে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া মাদ্রাসার নামে কাগজপত্রে ১২৩ শতাংশ জমির উল্লেখ থাকলেও এর মধ্যে ৬০ শতাংশ জমির নামজারি নেই। নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক তদারকির অভাবে শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসাবিমুখ হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মাদ্রাসা অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া, শ্রেণিকক্ষে হাজিরা না নেওয়া, জমির নামজারি না থাকা, শিক্ষকদের ছুটি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর করা প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল।

এসব অভিযোগ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬-এর ১৮(২)(ক) বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানপ্রধানসহ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাময়িক বরখাস্তের মতো শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিতে মাদ্রাসা সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হলো। একই সঙ্গে ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত দুই শিক্ষকসহ মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে কেন বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হলো।

এ বিষয়ে মাদ্রসার সুপার নুহ ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘হঠাৎ ইউএনও মাদ্রাসায় পরিদর্শনে আসেন, তিনি প্রতিবেদনে যা লিখেছেন তা সঠিক। আমরা মাদ্রাসা অধিদপ্তরে গিয়ে ব্যাখ্যা দেব।’

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top