সাম্প্রতিক
স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আটক বিশ্বকাপ জিতেও মেসির জন্য কাঁদল কুবারসির মন ভারতের ককরোচ পার্টির সংসদ অভিমুখী মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ রণক্ষেত্র দিল্লি, বন্ধ ইন্টারনেট বিশ্বকাপের উন্মাদনায় বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি ১৭০০ কোটি ডলার মশা নিধনে দেশীয় উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দিতে আহবান স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর হারের পরেও বীরের সম্মান, আর্জেন্টিনায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা অনিরাপদ পথ ব্যবহারের সময় হরমুজে ২টি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতকে বাংলাদেশের চিঠি

শেখ মুজিবের ঘাতককে পাঠালেও জিয়ার খুনিকে ফেরত দেয়নি ভারত: রিজভী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন যে, ভারত সরকার শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিকে শেখ হাসিনার হাতে তুলে দিলেও, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কোনো খুনিকে ফেরত দেয়নি। ভারতের পররাষ্ট্রনীতির এই দ্বিমুখী ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, মেজর মোজাফফর হোসেনের মতো খুনিরা কীভাবে বছরের পর বছর ভারতে নিরাপদে অবস্থান করতে পারল। 
রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ভারতের ভূমিকা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নীতি নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। [1]
ভারতের নীতি নিয়ে রিজভীর তীব্র সমালোচনা
আলোচনা সভায় রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারত একতরফা সুবিধা ভোগ করেছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছাপূরণে ভারত শেখ মুজিবের হত্যাকারীদের শনাক্ত ও প্রত্যর্পণে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেখিয়েছে। অথচ, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ও পলাতক আসামিদের ক্ষেত্রে ভারত সম্পূর্ণ রহস্যজনক ভূমিকা পালন করেছে। তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমানের খুনিরা ভারতের মাটিতে বছরের পর বছর নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে এসেছে, যা অত্যন্ত পক্ষপাতমূলক। 
নেপথ্যে মেজর মোজাফফর হোসেনের গ্রেফতার
সম্প্রতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা সাবেক মেজর (অব.) মো. মোজাফফর হোসেন (৭৭) রাজধানীর বনানী থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কর্তৃক গ্রেফতার হওয়ার পর এই রাজনৈতিক বিতর্কটি নতুন করে সামনে আসে। 
ডিবির জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের সূত্রে জানা যায়: 
  • হত্যাকাণ্ডে ভূমিকা: ১৯৮১ সালের ৩০ মে সামরিক অভ্যুত্থানের রাতে মেজর মোজাফফর ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন সরাসরি রাষ্ট্রপতির কক্ষের দিকে অগ্রসর হন এবং রাষ্ট্রপতি জিয়াউ রহমানকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। 
  • দীর্ঘদিন পলাতক ও আত্মগোপন: ঘটনার পর সরকারি বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। রিজভীর অভিযোগ, শেখ হাসিনার শাসনামলে এই খুনিরা নাম ও পরিচয় পরিবর্তন করে নির্বিঘ্নে দেশে যাতায়াতও করেছে। 
  • যেভাবে গ্রেফতার: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতারকৃত এক কর্মকর্তার মোবাইল ফরেনসিক অ্যানালাইসিস করে ডিবির দল মোজাফফরের সন্ধান পায়। পরে বনানীর একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে নাকের নিচের বিশেষ জন্মদাগ দেখে তাকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তাকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সেনাবাহিনীর মিলিটারী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 
সুষ্ঠু তদন্তের দাবি অপরাধ বিশেষজ্ঞদের
জিয়া হত্যা মামলার এই গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে দীর্ঘ সময় পর পাওয়ায় অপরাধ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা একে যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন এবং অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, মোজাফফর হোসেনকে তড়িঘড়ি শাস্তি না দিয়ে একটি জোরালো ও নিরপেক্ষ যৌথ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা উচিত। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী বা মাস্টারমাইন্ড কারা ছিল এবং এর পেছনে দেশি-বিদেশি কী ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক ষড়যন্ত্র যুক্ত ছিল, তা উদঘাটন করাই এখন সময়ের দাবি। 
রিজভী তার বক্তব্যে ভারতের এই দ্বিমুখী আচরণ ও সাবেক সরকারের উদাসীনতাকে দায়ী করে অবিলম্বে জিয়া হত্যার পেছনের সম্পূর্ণ সত্য ও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র দেশবাসীর সামনে প্রকাশের জোর দাবি জানান।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :