জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের ২নং যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমী ২০২১ সালের ২৩ আগস্ট নিজের ষষ্ঠবার গ্রেফতার ও পরবর্তী প্রায় দুই মাসের কারাবাসের স্মৃতিচারণ করেছেন। এ সময়ের ঘটনাকে তিনি জীবনের ‘দুঃসহ অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
শনিবার (২৩ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে মোস্তাফিজুর রহমান রুমী এসব কথা জানান।
পোস্টে রুমী উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ১৭ আগস্ট তৎকালীন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তার দাবি, ওই কর্মসূচিতে পুলিশ গুলিবর্ষণ ও হামলা চালালে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
এরপর শেরেবাংলা নগর থানায় তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয় বলে পোস্টে দাবি করেন রুমী। একইসঙ্গে তাকে গ্রেফতারে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রুমীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট ২০২১ হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করতে গেলে ডিবি তাকে সেখান থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে সেটি ব্যর্থ হয়। পরে প্রায় সাত দিন পর ২৩ আগস্ট রাত ১০টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকা থেকে ডিবি তাকে, সাইফ মাহমুদ জুয়েল ও শেরাজুল ইসলামকে আটক করে।
গ্রেফতারের পর তাকে গুম করার পরিকল্পনা ছিল বলেও পোস্টে অভিযোগ করেন রুমী। তবে সহযোদ্ধাদের তৎপরতা, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি, বিএনপির মহাসচিবের বিবৃতি, সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখির কারণে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে ডিবি কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার কাছ থেকে তিনি তথ্য পেয়েছিলেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয় বলে জানান রুমী। তার দাবি, একদিন ডিবি কার্যালয় এবং দুই দিন থানায় রিমান্ডের নামে তাকে ‘অমানবিক নির্যাতন’ করা হয়।
পোস্টে রুমী আরও অভিযোগ করেন, রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনের রাতে চোখ ও হাত-পা বেঁধে তাকে নির্যাতন করা হয়। এতে একই মামলায় রিমান্ডে থাকা সাইফ মাহমুদ জুয়েল তার অবস্থা দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরে শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে তাকে ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া হয় এবং হাঁটতে অসুবিধা থাকা অবস্থায় আদালতে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এরপর তাকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে তিন দিন থাকার পর ‘শাস্তিস্বরূপ’ তাকে কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছিল বলে পোস্টে দাবি করেন রুমী। পরে কাশিমপুর-২ কারাগারে প্রায় দুই মাস অবস্থানের পর জামিনে মুক্তি পান বলে জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গে রুমী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে ১৫টির বেশি মামলা হয়েছে এবং গ্রেফতার ও কারাবাসের ছয়টি ঘটনার মধ্যে ২০২১ সালের ঘটনাটি ছিল ষষ্ঠ। প্রতিবারই কমবেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, ষষ্ঠবারের গ্রেফতারে নির্যাতনের মাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি।
তবে এসব প্রতিকূলতার পরও রাজনৈতিক আদর্শ থেকে সরে যাননি বলে পোস্টে উল্লেখ করেন রুমী। তার ভাষায়, কারাবাস তাদের কাছে ‘বিশ্রামাগার’ এবং রাজপথ ছিল ‘খেলার মাঠ’।
পোস্টের শেষাংশে দীর্ঘ রাজনৈতিক দুঃসময়ে পাশে থাকা সহযোদ্ধা, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জবি ছাত্রদলের এই নেতা। একইসঙ্গে মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন তিনি।


