নতুনত্ব ও ব্যতিক্রমী কিছু করার প্রত্যয়ে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ৮ নম্বর শেরকোল ইউনিয়নের শিববাড়ি বাজারে যাত্রা শুরু করেছে পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাভাসাইন ফ্যাশন’। তিন তরুণের উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানসম্মত পোশাক তৈরির মাধ্যমে ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছে।
‘অ্যাভাসাইন ফ্যাশন’-এর উদ্যোক্তারা হলেন কুশিপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে বাবু মণ্ডল (৩৬), ভাগনাগরকান্দি গ্রামের আকরাম হোসেনের ছেলে সাহাগ আলী সরকার (২৪) এবং আত্রাই উপজেলার নদীগ্রামের মনসুর আলী সরকারের ছেলে আবদুল্লাহ আল আরিফ (৩১)।
উদ্যোক্তাদের মধ্যে বাবু মণ্ডল এইচএসসি ও ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন। এর আগে তিনি গাইবান্ধার মাবিদগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্টে কাজ করেছেন। সাহাগ আলী সরকার বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছেন। অন্যদিকে আরিফের গার্মেন্টস সেক্টরে দীর্ঘ ১৩ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে।
পারিবারিক সম্পর্কেও তিন উদ্যোক্তা একসূত্রে বাঁধা। বাবু মণ্ডল ও সাহাগ আলী মামাতো-ফুফাতো ভাই। অন্যদিকে আরিফ হলেন বাবু মণ্ডলের ভগ্নিপতি। পারিবারিক বন্ধন, অভিজ্ঞতা ও নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু করার চিন্তা থেকেই গড়ে ওঠে ‘অ্যাভাসাইন ফ্যাশন’।
সিংড়া উপজেলার ৮ নম্বর শেরকোল ইউনিয়নের শিববাড়ি বাজারে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। একই বছরের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে আটটি আধুনিক সেলাই মেশিনের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে।
প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়মিত টি-শার্ট, পোলো শার্ট, সুইট শার্ট, জার্সি, ট্রাউজার ও হুডিসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি করা হচ্ছে। অনলাইন ডিজাইন ও মার্কেটিংয়ের দায়িত্ব পালন করছেন সাহাগ আলী সরকার। কারখানার উৎপাদন ও সার্বিক কাজের তত্ত্বাবধান করছেন বাবু মণ্ডল ও আবদুল্লাহ আল আরিফ।
উদ্যোক্তা বাবু মণ্ডল বলেন, “কাজের চাপ বাড়ায় নিয়মিত তিন থেকে চারজন স্থানীয় কর্মচারী আমাদের সঙ্গে কাজ করছেন। এতে স্থানীয় কয়েকজনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন দলের টি-শার্ট তৈরি করেও আমরা ভালো সাড়া পেয়েছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সামাউন আলীসহ অনেকে জানান, অভিজ্ঞতা, কারিগরি দক্ষতা ও আধুনিক বিপণন ব্যবস্থার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ‘অ্যাভাসাইন ফ্যাশন’ এলাকায় নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করছে। স্থানীয়ভাবে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় তারা আনন্দিত। মানসম্মত পোশাক সরবরাহের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে একটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও তারা প্রত্যাশা করেন।
উদ্যোক্তারা জানান, বর্তমানে স্থানীয় বাজারকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করলেও ভবিষ্যতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ‘অ্যাভাসাইন ফ্যাশন’-এর পোশাক পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা দেওয়া এবং স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও বড় পরিসরে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য।




