বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা করায় আনন্দের জোয়ার বইছে উত্তরবঙ্গের এই প্রাচীন জনপদে। ঐতিহাসিক এই অর্জনকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে বগুড়া নগরবাসীর উদ্যোগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়ে বিশাল উৎসব পালিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়া প্রেসক্লাব ও বগুড়া সাংস্কৃতিক ফোরামের আয়োজনে শহরে বর্ণাঢ্য আনন্দ পদযাত্রা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদ খোকন পার্ক ও শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হতে শুরু করেন। শিশু-কিশোরদের নাচ ও গানে পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনের পর একটি বিশাল আনন্দ পদযাত্রা বের করা হয়। পদযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিলা স্কুল মোড় ও জলেশ্বরীতলা হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়। দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’ এর স্বীকৃতি পাওয়ায় মাগরিবের নামাজের পর ১৩ বার তোপধ্বনি দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে নাচ, গান ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে এক বর্ণিল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপভোগ করেন নগরবাসী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, “২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় তারেক রহমান বগুড়া পৌরসভাকে বর্ধিত করেছিলেন। ১২টি ওয়ার্ডকে ২১ ওয়ার্ডে উন্নীত করেছিলেন। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার বগুড়াকে সব ধরনের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রেখেছিল। আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান গত ২০ এপ্রিল বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা করে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়েছেন। এখন থেকে বগুড়াবাসী আধুনিক সব নাগরিক সুবিধা পাবেন।”
উৎসবে আসা বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মী অলোক পাল তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা করায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমাদের প্রত্যাশা, বগুড়া হবে একটি উন্নত ও আধুনিক গানের নগরী, পাখির নগরী। করতোয়া নদী ফিরে পাবে তার হারানো যৌবন এবং অবকাঠামোগতভাবে বগুড়া হবে বিশ্বমানের একটি শহর।”
বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ উন নবী সালাম, ড্যাব জেলা সভাপতি ডা. শাহ মো. শাজাহান এবং বগুড়া প্রেসক্লাব সভাপতি রেজাউল হাসান রানু।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গাবতলী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহজাহান রিপন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহা উদ্দিন নাহিন, সাবেক কাউন্সিলর শাহ মেহেদী হাসান হিমু, তৌহিদুল ইসলাম বিটু এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান। আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এবং সাংস্কৃতিক ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ খন্দকার।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাসাস শহর শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান পিয়াস। গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই উৎসবে শহরের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।












