সুস্থ পরিবেশ ও আধুনিক সমৃদ্ধ উন্নয়নের প্রত্যয়ে জেলা বিএনপি নেতার গণসংযোগ

গোপালগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১১নং(সাবেক ৮নং) ওয়ার্ডের চারবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর, জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এম. মাহবুব আলী সোহেল বলেন, আপনাদের দোয়া ও সমর্থন নিয়েই আমি পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। আপনাদের ভালোবাসা পাশে থাকলে, আপনাদের সমর্থন পেলে গুলিকেও ভয় পাই না। আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক চিন্তা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় ঘটিয়েই একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ আধুনিক গোপালগঞ্জ পৌরসভা গড়া সম্ভব। গোপালগঞ্জে সুপেয় পানি সরবরাহ, সুস্থ পরিবেশ,  জলাবদ্ধতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, অপরিকল্পিত অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়কের অনাকাঙ্ক্ষিত দুরবস্থা ও যত দ্রুত সম্ভব নাগরিক সেবার সীমাবদ্ধতা লাঘবের ব্যবস্থা করাই আমার মূল লক্ষ্য। আমি আপনাদের সন্তান। অতীতের ন্যায় সুখে-দুঃখে সবসময় আপনাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি।
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাম্প্রতি গোপালগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে, পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগকালে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন জেলা বিএনপি নেতা এম. মাহবুব আলী সোহেল। তিনি গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এম মনসুর আলীর ছেলে।
তিনি আরও বলেন, আমার রাজনৈতিক দর্শন খুব পরিষ্কার। আমি কারও বিরুদ্ধে কটূক্তি বা দোষারোপের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। কাদা ছোড়াছুড়ি নয়—নিজের কাজ, ইতিবাচক আচরণ ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে জনগণের মন জয় করতে চাই।
নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। তবে কারাবরণকে তিনি শাস্তি নয়, বরং বাস্তবতা উপলব্ধির একটি বড় শিক্ষা হিসেবে দেখেন। “কারাগারের দিনগুলো আমাকে আরও দায়িত্বশীল, ধৈর্যশীল ও মানবিক করেছে। জেল-জুলুম আমাকে মানুষের সেবা করার সংকল্প থেকে সরাতে পারেনি, বরং আরও দৃঢ় করেছে,”—বলেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি একটি অংশগ্রহণমূলক, বৈষম্যমুক্ত ও প্রগতিশীল গোপালগঞ্জে বিশ্বাস করি। তিনি কোনো পদ বা ক্ষমতার লোভে নির্বাচনে আসেননি; এসেছেন মানুষের কণ্ঠস্বর হতে। “গোপালগঞ্জ সবার। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবেই, কিন্তু উন্নয়ন, শান্তি ও জনকল্যাণের প্রশ্নে আমাদের সবাইকে এক সুতোয় বাঁধা থাকতে হবে,”—উল্লেখ করেন তিনি।
দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাথে যুক্ত আছি। ছাত্র জীবনে ছাত্রদল করেছি। জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলাম। পরবর্তীতে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১১নং (সাবেক ৮নং) ওয়ার্ডের চারবারের নির্বাচিত সাবেক কাউন্সিলর। সুদীর্ঘ প্রায় ২০’বছর পৌরসভার একজন কাউন্সিলর (কমিশনার) হিসেবে এই পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। আমার কাছের মূল্যায়ণ করে দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আধুনিক, স্মার্ট পৌরসভা গড়ে তুলবো। শেষে তিনি সবাইকে কাদা ছোড়াছুড়ি পরিহার করে উন্নয়ন ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির  একাধিক ত্যাগী নেতাকর্মীরা বলছেন, বর্তমানে গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অনুপস্থিতিতে ‘দুধের মাছি’দের দৌরাত্ম্য বেড়েছে বহু গুনে। তারা জেলা বিএনপির অভ্যন্তরে ব্যাপক সক্রিয়। এর ফলে জেলার আদি ও প্রকৃত বিএনপি নেতৃত্ব আজ কোণঠাসার পর্যায়ে। এমতাবস্থায় যারা দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ তাদেরকে বাদ দিয়ে অনুপ্রবেশকারী কোন হাইব্রিড নেতাকে মনোনয়ন দিলে বিএনপির নিবেদিত কর্মীদের মনোক্ষুণ্ণ হবে। বিএনপি পরিবার তা কখনো মেনে নেবে না। অভিযোগ রয়েছে, এই হাইব্রিড সুবিধাভোগী নেতাদের একাংশ ঠিকাদারি কাজ, তদবির, অবৈধ দখল, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে সরাসরি লিপ্তরয়েছে। আদালত চত্বর, প্রকৌশল অফিস, হাসপাতালসহ শহরের বিভিন্ন সরকারি অফিসে আশঙ্কাজনকভাবে সর্বত্র এদের দৌরাত্ম বেড়ে গেছে। এলাকা ভিত্তিক সরকারি অফিসগুলোকে দখলে নিয়ে রেখেছেন বিএনপি নামধারী এসব বহিরাগতরা। এদের কারণেই জেলা বিএনপির অভ্যন্তরে রয়েছে কলহ ও বিভাজন।
যদিও তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সব প্রার্থী কিন্তু সমান ভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি ভোটের মাঠে। সাংগঠনিক দক্ষতা ও ব্যক্তিগত ইমেজের কারণে হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন প্রার্থী ভোটের মাঠে জনপ্রিয়তায় রয়েছেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন