চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সরকারি কারিগরি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন। বাকি ১৬ জনই অকৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। অথচ কলেজ শাখায় কর্মরত রয়েছেন ১৫ জন শিক্ষক। এমন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত শনিবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির এমন হতাশাজনক চিত্র সামনে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৭ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র একজন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১৬ জন। কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি।
এদিকে কলেজ শাখায় ১৫ জন শিক্ষক ছাড়াও সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক ও জনবলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও ফলাফলের এমন বিপর্যয় নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক বলেন, ‘সন্তানদের ভালো ফলাফলের আশায় কলেজে ভর্তি করাই। কিন্তু এত শিক্ষক থাকার পরও যদি শিক্ষার্থীরা পাস করতে না পারে, তাহলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ কোথায়?’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মান বাড়াতে কলেজ কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু শিক্ষক নিয়োগ দিলেই হবে না, নিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি যথাযথ নজরদারিও নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে জীবননগর সরকারি কারিগরি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. ইমরুল কাদির বলেন, ‘এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। বিষয়টি আমাদের জন্য হতাশাজনক। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থাকা, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির ঘাটতি ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।’
তিনি আরও বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সংকট রয়েছে। বিশেষ করে উচ্চতর গণিত, ইংরেজি এবং তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা ছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামীতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পাঠদানের ব্যবস্থা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ফলাফল আর না হয়, সে লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কাজ করবে বলেও জানান তিনি।



