স্থানীয়ভাবে উচ্চ সুদের ফাঁদে ফেলে শতাধিক পরিবারকে সর্বস্বান্ত করার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিলেন ইকবাল শেঠ। জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই রকিব উদ্দিন জনির নেতৃত্বে এসআই আলহাজ আলী, কনস্টেবল ইমরান, কনস্টেবল সোহেলসহ সঙ্গীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।ডিবি পুলিশের তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম আজমল হুদা জানান, আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে মিরপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ওসি আরও বলেন, ইকবাল শেঠের বিরুদ্ধে যেসব ভুক্তভোগীর অভিযোগ রয়েছে, তারা যেন মিরপুর থানায় যোগাযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন মামলা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, নুর আলম ওরফে ইকবাল শেঠ একসময় রড ও সিমেন্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে সুদের ভিত্তিতে অর্থ লেনদেনের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। বর্তমানে তার দোকানে কোনো পণ্য না থাকলেও এলাকাবাসীর কাছে সেটি ‘সুদ ব্যবসার অফিস’ হিসেবেই পরিচিত।
অভিযোগ রয়েছে, তার কাছ থেকে ঋণ নিতে হলে ঋণগ্রহীতাকে আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিতদের মধ্য থেকে অন্তত দুইজন জামিনদার দিতে হতো। পাশাপাশি ঋণগ্রহীতার বাবা, মা বা স্ত্রীকেও জামিনদার হিসেবে রাখা বাধ্যতামূলক করা হতো। এছাড়া জামিনদারদের স্বাক্ষর করা একাধিক ফাঁকা চেক এবং ঋণগ্রহীতা ও তার পরিবারের সদস্যদের স্বাক্ষরিত চেক জমা রাখা হতো বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি লাখ টাকায় সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদ আদায় করা হতো। কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব হলে ঋণগ্রহীতাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হতো। এমনকি টাকা আদায়ে ব্যর্থ হলে কিছু ভুক্তভোগীকে তুলে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগও রয়েছে। পরে চাপ প্রয়োগ করে হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানো হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।












