প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেছেন, বর্তমান সরকার মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী। তবে স্বাধীনতার নামে কারো ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়, এটি স্পষ্টত একটি অপরাধ।
সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (২৫ মে) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, “গণমাধ্যম যেন কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা সমালোচনাকে ভয় পাই না, বরং গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করি। কিন্তু দুঃখজনক হলো, এই স্বাধীনতার অপব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনেকের চরিত্র হনন করছে, যা কোনোভাবেই সাংবাদিকতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতার পর্যায়ে পড়ে না।”
বিরোধী দল এবং বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা দেখছি একটি বিশেষ গোষ্ঠী নিজেরা সরাসরি কিছু না বলে স্কুল-কলেজের কিশোর বয়সী শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এই ছেলে-মেয়েদের অনেকেরই এখনো কৈশোর পার হয়নি। তাদের দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবার সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করানো হচ্ছে। আর সেই দৃশ্য দেখে পেছনে বসে থাকা কুশীলবরা হাততালি দিয়ে তা উপভোগ করছেন।”
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এই কিশোররা আমাদের আগামীর সম্পদ এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। না বুঝেই তাদের এমন নোংরা রাজনৈতিক চর্চায় জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”
উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “মত প্রকাশের স্বাধীনতা মানে কি কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা কিংবা মানুষের চরিত্র হনন করা? সাংবাদিক সমাজের কাছে আমার এই প্রশ্ন রইল। এগুলো কোনোভাবেই স্বাধীনতা নয়, বরং দণ্ডনীয় অপরাধ।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য নিয়ে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ভূয়া ফটোকার্ড ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এই অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সাংবাদিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।












