কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র থানাহাট বাজারের আবর্জনা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চরম বেহাল দশা বিরাজ করছে। নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনের অভাব, যত্রতত্র ময়লা ফেলা ,গরু ছাগল জবাইয়ের নির্দিষ্ট কোন জায়গা না থাকা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে বাজারের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
প্রতিনিয়ত গুরুত্বপূর্ণ থানাহাট বাজারে প্রায় ১২ মন বর্জ্য জমা হয়। বর্জ্য সরানোর নেই যানবাহন, অযান্ত্রিক ট্রলিতে বর্জ্য নিয়ে পরিবেশ কর্মী অপরিকল্পিত স্থানে ফেলতো।যত্রতত্র বর্জ্য নিষ্কাশন, দোকান ও বাজারের ময়লা সরাসরি রাস্তাঘাট, ড্রেন এবং নালা বা জলাশয়ের আশেপাশে ফেলা হয়। এতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। গুরুত্বপূর্ণ নালা ভরাট ও পরিবেশ দূষণের কারণে স্থানীয়দের প্রতিবাদে বাজারের বর্জ্য ঐ আর স্থানে ফেলতে পারছে না। বাজারের দোকানদারা পড়ছে বিপদে। পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যসেবা কারণে ক্রেতা সংকটে ভুগছে দোকানীরা।
ব্যবসায়ী ও বনিক সমিতির সহ. সেক্রেটারী সোহেল জানান গত ঈদুল আজহার পরদিন থেকে বাজারের বর্জ্য সরানো হচ্ছে না। যত্রতত্র বাজারের বর্জ্য ও ময়লা আবর্জনা স্তুপ হয়ে আছে। এতে বাজারের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
বাজারের ইজারাদার চমক জানান বিষয়টি অবগত আছি । স্থায়ী কোন জায়গা না থাকায় বর্জ্য নিঃসরণ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি ইউএনও স্যার কে জানানো হয়েছে।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বনিক সমিতির সেক্রেটারি শাহজাহান জানান, বাজারের বর্জ্য ও ময়লা আবর্জনা নিয়ে আমারও চিন্তিত। আগে অস্থায়ীভাবে ব্রিজের নিচে নালা ও খালে বর্জ্য ফেলানো হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ নালা খাল ভরাট ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিকল্প কোন জায়গা না থাকায় বাজারে যেখানে সেখানে বর্জ্য ও ময়লা আবর্জনা স্তুপ হয়ে আছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বনিক সমিতি ও বাজার ইজারাদারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত।
তবে ঈদুল আজহার পর থেকে দৃশ্যমান কার্যকরী পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এর আগে উপজেলা প্রশাসন থেকে বর্জ্য রাখার প্লাষ্টিকের ড্রাম দেয়া হলেও সেগুলো এখন আর নেই।
ডাম্পিং স্টেশনের অভাব বাজার বা ইউনিয়ন পর্যায়ে বর্জ্য ফেলার কোনো নির্দিষ্ট ডাম্পিং জোন নেই। যত্রতত্র বর্জ্য নিক্ষেপ কাঁচাবাজারের পচনশীল অংশ, প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য রাস্তার পাশেই স্তূপ করে রাখা হয়। পশূ জবাইয়ের নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় পশূর জবাইয়ের রক্ত, বর্জ্য ও মাছের বর্জ্যের কারণে নর্দমাগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন পথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার অভাব বাজার ইজারা বা বণিক সমিতির মাধ্যমে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।
সৃষ্ট জনদুর্ভোগ ও ক্ষতিকর প্রভাবদুর্গন্ধ ও বায়ু দূষণ: স্তূপীকৃত ময়লা পচে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা ক্রেতা, বিক্রেতা ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করছে। স্বাস্থ্য ঝুঁকি: মশা-মাছির উপদ্রব এবং নোংরা পরিবেশের কারণে ডায়রিয়া, ডেঙ্গু ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধির ঝুঁকি বাড়ছে। ব্যবসায়িক ক্ষতি: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ক্রেতারা বাজারে স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে পারছেন না, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রয়োজনীয় জরুরি পদক্ষেপসমূহস্থায়ী ডাম্পিং জোন: উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পরিষদের উদ্যোগে দ্রুত বর্জ্য ফেলার জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করা। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ: বাজার ইজারাদার বা থানাহাট বাজার বণিক সমিতির মাধ্যমে প্রতিদিনের বর্জ্য প্রতিদিন সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা।বাজারের অবরুদ্ধ ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানি ও তরল বর্জ্য নিষ্কাশনের পথ সচল করা।












