নওগাঁর মান্দা উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী তথাকথিত ‘জাতীয় ফল মেলা’। ‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’ এমন চটকদার প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ১৮ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত এই মেলার আয়োজন করা হলেও, মাঠপর্যায়ে এর প্রকৃত কার্যকারিতা নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন। উন্মুক্ত ও বড় কোনো প্রাঙ্গণের পরিবর্তে মেলাটি ঠাঁই পেয়েছে উপজেলা পরিষদের হলরুমের অডিটরিয়ামের ভেতর, যা এর ব্যাপ্তি ও উদ্দেশ্যকেই সংকীর্ণ করে ফেলেছে।
মেলায় দেশীয় মৌসুমি ফলের প্রদর্শনী, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ফল সংরক্ষণের যেসব গালভরা বুলি বা পরামর্শ সেবার কথা বলা হচ্ছে, তা সাধারণ কৃষকদের কতটা উপকারে আসবে তা নিয়ে তীব্র সংশয় রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী। এসময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা সীমা কর্মকার, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রুমেলা খাতুনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দাবি ফল চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এই আয়োজন। তবে সচেতন মহলের মতে, হলরুমের ভেতর আবদ্ধ এই মেলা মূলত সাধারণ ও প্রান্তিক ফলচাষিদের নাগালের বাইরে। প্রচারণার অভাবে অনেক সাধারণ দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থী মেলায় গিয়ে হতাশ হয়েছেন। চার দেয়ালের মাঝে বন্দি এমন দায়সারা আয়োজন প্রকৃতপক্ষে কৃষকদের কতটা উদ্বুদ্ধ করবে, নাকি এটি কেবলই বাজেট খরচের একটি চেনা মহড়া সেই প্রশ্নই এখন সর্বত্র।












