বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং বহিঃখাতের সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সরকার বাজেটে বিশেষ প্রস্তুতি ও ‘থ্রি-আর’ কৌশল নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার (২৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিনের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
বিকেল তিনটায় শুরু হওয়া এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এদিন লিখিত প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
অর্থমন্ত্রী জানান, বহিঃখাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার থ্রি-আর স্ট্র্যাটেজি অনুসরণ করছে। এর অর্থ হলো– রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রেস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাক্সিলারেশন। এই কৌশলের মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং উৎপাদনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্সের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বিবেচনা করে সরকার নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির ওপর জোর দিচ্ছে। মন্ত্রী জানান, বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার কৌশল নিয়েছে সরকার।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি, এলএনজি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ভর্তুকি সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা বাজেট বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।











