‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’ গানের গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’ অথবা ‘এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে না তো মন, কাছে যাবো কবে পাবো ওগো তোমার নিমন্ত্রণ’ এমন বহু জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগর গ্রামের সন্তান গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। তার লেখা বহু গান বাঙালির আবেগ, স্মৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছে। আজ গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের মৃত্যুবার্ষিকী।

ছোট থেকে বড়- বন্ধুবান্ধব গ্রুপের এমন কোন আড্ডা নেই- যেখানে এই গান সমবেত কণ্ঠে শোনা যায় না.। সেই সুরে ফেলে আসা সোনালি দিনের স্মৃতি গহ্বরে ডুবে অমল-রমা রায়, ডি সুজাদের খুঁজে বেড়ায় সকলেই।

মুখে মুখে ফেরা এই গানের মতো অসংখ্য অমর সঙ্গীতের গীতিকার ও সুরকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। যার জন্ম বাংলাদেশের পাবনার গোপালনগরে। প্রায় চার দশক আগে এদিন ৬১ বছর বয়সে চলে যান পৃথিবী ছেড়ে।

১৯২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই প্রখ্যাত গীতিকার। দেশভাগের পর পরিবারের সঙ্গে তিনি কলকাতায় চলে যান। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে একবার বাংলাদেশে এসে শেষবারের মতো ঘুরে যান তার শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত পৈতৃক ভিটায়। ১৯৮৬ সালের আজকের দিনে কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

জানা যায়, গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে গোপালনগর গ্রামের পূর্বপুরুষের বাড়িতে। পড়াশোনার জন্য পরবর্তী সময়ে তিনি কলকাতায় চলে যান। একসময় নিয়মিত গ্রামের বাড়িতে আসা-যাওয়া থাকলেও দেশভাগের পর পরিবারের সঙ্গে স্থায়ীভাবে ওপার বাংলায় চলে যান তিনি।

পরিবার ভারতে চলে যাওয়ার সময় গোপালনগরে মজুমদার পরিবারের ছিল বিশাল উঠোনসহ তিনতলা বাড়ি। আশির দশকেও সেই বাড়ির কিছু স্মৃতিচিহ্ন ছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় সেসবের কিছুই এখন আর অবশিষ্ট নেই।

সরেজমিনে গোপালনগরে গিয়ে দেখা যায়, গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের পৈতৃক বাড়ির জায়গায় এখন ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ওই জায়গায় তার স্মৃতিচিহ্ন বলতে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি তালগাছ ও একটি পুকুর ছাড়া আর কিছু নেই।

ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৪-৭৫ সালে গোপালনগর মৌজায় মজুমদার বংশের প্রায় ৩৩ একর জমি সরকার অধিগ্রহণ করে। সেখানে প্রতিষ্ঠা করা হয় হাসপাতাল। বর্তমানে ওই স্থানে ৫০ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে।

গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের ভাতিজা গৌরঙ্গ মজুমদার বলেন, ‘১৯৭২ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সফরে এসে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার শেষবারের মতো তার পৈতৃক ভিটায় যান। জন্মভূমির সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল।’

স্থানীয় শিক্ষক মেহেদী বলেন, ‘গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের এলাকার মানুষ হিসেবে আমরা গর্বিত। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, তার কোনো স্মৃতিই আমরা ধরে রাখতে পারিনি। তার পৈতৃক বাড়ির জায়গায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে তার নামে একটি স্মৃতিফলকও নেই।’

স্থানীয়রা জানান, হাসপাতালের পেছনে এখনো বেশকিছু জায়গা পড়ে আছে। সেখানে সরকার উদ্যোগ নিলে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের নামে একটি পাঠাগার, সংগ্রহশালা ও স্মৃতি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা সম্ভব। এতে নতুন প্রজন্ম তার জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

কচুয়া বাজারে রাত ৮টার পর দোকান খোলা রাখায় ৩ ব্যবসায়ীকে জরিমানা, সিঙ্গার শোরুমের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন”

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করায় চাঁদপুরের কচুয়া বাজারে