নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইসলাম শেখ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে অন্তত ৩০টি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রেহাই পায়নি গ্রামের এক অসহায় অন্ধ ভিক্ষুকের বাড়িও।
রঘুনাথপুর গ্রামের ইসরাফিল ফকির দীর্ঘদিন ধরে লোহাগড়া ব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। চোখে দেখতে না পাওয়ায় মানুষের সহায়তার ওপর নির্ভর করেই চলে তাঁর জীবন। জরাজীর্ণ একটি ছোট ঘরেই তাঁর বসবাস।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইসলাম শেখ হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের সময় ইসরাফিল ফকিরের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। ঘরের মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর স্বজন ও স্থানীয়দের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, কয়েকটি বাড়ি থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও গবাদিপশু লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২৩ সেপ্টেম্বর রঘুনাথপুরের কয়েকজন বাসিন্দা লোহাগড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
একজন অন্ধ ভিক্ষুকের বাড়িতে কেন হামলা ও লুটপাট চালানো হলো—এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন, যে মানুষটি নিজেই অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন, তাঁর ঘর থেকে লুট করার মতো কী-ই বা ছিল?
উল্লেখ্য, গত ১০ সেপ্টেম্বর রঘুনাথপুর কবরস্থান এলাকায় ইসলাম শেখকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ১২ সেপ্টেম্বর তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগম বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে এজাহার সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা ইসলাম শেখ হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নিরীহ মানুষের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, ইসলাম হত্যা মামলার কয়েকজন আসামি আটক হয়েছে এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও অপরাধীদের ধরতে ওই এলাকায় রবিবার (৪ অক্টোবর) একটি বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।




