চীনে উচ্চপদে চাকরির প্রলোভন, অর্থ আত্মসাৎ ও হত্যার হুমকির অভিযোগ: বারিধারা ডিওএইচএসের রিচার্ড ইন্টারন্যাশনাল ঘিরে প্রশ্ন
বিদেশে আকর্ষণীয় চাকরির আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ; ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিকার চাইতে গিয়ে হয়রানি ও মামলার ভয় দেখানোর মুখে পড়েছেন তাঁরা
ঢাকা: চীনে ফরেন সেলস ম্যানেজার, এক্সপোর্ট সেলস অফিসারসহ উচ্চপদে চাকরির সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া এবং পরে সেই অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় অবস্থিত রিচার্ড ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, অর্থ ফেরত চাইতে গেলে তাঁদের কেউ কেউ হয়রানি, মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয়, ব্ল্যাকমেইল এবং এমনকি হত্যার হুমকিরও সম্মুখীন হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ চাকরিপ্রার্থীদের বিদেশে আকর্ষণীয় পদে নিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হতো। কিন্তু প্রতিশ্রুত চাকরি ও অর্থের বিষয়ে বিরোধ দেখা দেওয়ার পর তাঁরা প্রত্যাশিত সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা, অর্থ লেনদেনের প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
থানায় অভিযোগ করেও কি মিলছে না প্রতিকার?
ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁরা সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পাশাপাশি বারিধারা ডিওএইচএস পরিষদেও অভিযোগ জানিয়ে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপের পরও অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত সমাধান মেলেনি।
প্রশ্ন উঠছে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে? অর্থ লেনদেনের নথি, চাকরির প্রস্তাবসংক্রান্ত যোগাযোগ এবং অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে কোনো তদন্ত হয়েছে কি না, তা জানা জরুরি।
মালিকের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন
অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিচার্ড ইন্টারন্যাশনালের মালিক হিসেবে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের নাম উঠে এসেছে। তাঁদের দাবি, তিনি কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘রিচার্ড’ নামে নিজের পরিচয় দিতেন। এ বিষয়ে তাঁর প্রকৃত পরিচয়, প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং বিদেশে নিয়োগ দেওয়ার অনুমোদন রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগে আফরা ইবানাত সুমাইয়ার নামও এসেছে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ তাঁকে প্রতিষ্ঠানের মালিকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে অভিযোগে উল্লিখিত প্রত্যেক ব্যক্তির নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা স্বাধীনভাবে যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
হত্যার হুমকির অডিও রেকর্ডের দাবি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়ার একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদককে দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। রেকর্ডটির উৎস, কথোপকথনের প্রেক্ষাপট, কণ্ঠের পরিচয় এবং এর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হলে অভিযোগটির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হতে পারে।
অডিও রেকর্ডটি যথাযথভাবে পরীক্ষা না করে এর বক্তাকে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত করা সমীচীন নয়। তবে হুমকির অভিযোগ সত্য হলে তা ভুক্তভোগীর নিরাপত্তার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
যোগাযোগের চেষ্টা, কিন্তু সাক্ষাৎ মেলেনি
লেখকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিচার্ড ইন্টারন্যাশনালের মালিকের সঙ্গে বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সরাসরি সাক্ষাতের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাক্ষাৎ করতে সম্মত হননি। এ বিষয়ে যোগাযোগের তারিখ, কলের রেকর্ড এবং তাঁর বক্তব্য নেওয়ার অন্যান্য প্রচেষ্টার তথ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলার সংখ্যা, সংশ্লিষ্ট আদালত, মামলার বর্তমান অবস্থা এবং অভিযোগগুলোর প্রকৃতি যাচাই করা ছাড়া এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
যেসব প্রশ্নের উত্তর জরুরি
বিদেশে উচ্চপদে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের পেছনে কী ঘটেছে? চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে তার ভিত্তি কী ছিল? প্রতিশ্রুত চাকরি না হলে অর্থ ফেরতের বিষয়ে কী সমঝোতা হয়েছিল? থানায় অভিযোগ ও জিডি করার পর তদন্তের অগ্রগতি কী? আর হুমকির অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী ব্যবস্থা নিয়েছে?
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন অভিযোগকারীদের বক্তব্য, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ, নিয়োগসংক্রান্ত চুক্তি ও বার্তা, জিডি বা মামলার নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য।
রিচার্ড ইন্টারন্যাশনালের মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ও নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া যাচাইয়ের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে আসতে পারে।
বিদেশে চাকরির আকর্ষণীয় প্রস্তাব গ্রহণের আগে চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, চাকরির চুক্তি, ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বৈধতা এবং অর্থ লেনদেনের শর্ত যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা এবং আইনানুগ প্রতিকার নিশ্চিত করাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।




