খুলনায় প্রায় ২০ ঘণ্টার ব্যবধানে তিন স্থানে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলায় দুটি এবং নগরীতে একটি ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন সাবেক ছাত্রদল ও যুবদল নেতা। তাদের একজনের নামে ১১টি এবং আরেকজনের নামে ৮টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে নগরীতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন একটি সিগারেট কোম্পানির কর্মী। তাকে গুলি করে ল্যাপটপের ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বটিয়াঘাটা উপজেলার বড় কড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সড়কে সোহেল শেখ (৩৬) নামে সাবেক এক ছাত্রদল নেতাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তিনি উপজেলার ৭ নম্বর আমিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে যুবদলের কর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি বড় কড়িয়া এলাকার গনি শেখের ছেলে। সোহেল শেখের নামে ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় সোহেল মোটরসাইকেলে বসে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুটি মোটরসাইকেলে এসে দুজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে তার ডান হাত ও পেটের ডান পাশে গুলি লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সার্জারি ইউনিট-১-এর ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এর আগে, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের চক্রাখালী বাজারসংলগ্ন বাদশার দোকানের সামনে গুলিবিদ্ধ হন অহিদুল ইসলাম বাদল (৩৫)। মোটরসাইকেলে আসা অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
বাদল বটিয়াঘাটা উপজেলার তেঁতুলতলা গ্রামের আলতাফ হাওলাদারের ছেলে। তিনি জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী। তার নামে আটটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ১০ মিনিটের দিকে নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর রোডে তামান্না টাওয়ারের দক্ষিণ পাশে নাসিম ট্রেডার্সের সামনে সালমান (২৩) নামে এক সিগারেট কোম্পানির কর্মীকে গুলি করে তার কাছে থাকা ল্যাপটপের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুটি মোটরসাইকেলে আসা চারজন সালমানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে তার পেটের ডান পাশে গুলি লাগে। পরে তার কাছে থাকা ল্যাপটপের ব্যাগ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান তারা। সালমান ক্যামেল সিগারেট কোম্পানির পিয়ন হিসেবে কর্মরত। তিনি নিরালা আবাসিক এলাকার সবুজবাগের বাসিন্দা। তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
তিনটি ঘটনার খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সোহেলকে গুলির ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের এক রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র জানান, সোহেল শেখের বিরুদ্ধে মাদকসহ ১১টি মামলা রয়েছে। গুলির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
তিনটি ঘটনার মধ্যে বটিয়াঘাটায় সংঘটিত দুটি গুলির ঘটনার কারণ এবং নগরীতে গুলি করে ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।



