১০ হাজার টাকার বিনিময়ে মাঝি ডাকাতের হাতে তুলে দেন, নিখোঁজের ৩ দিন পর নেসলের কর্মী শ্যামলের লাশ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ধরাভাঙা মেঘনা নদী থেকে শ্যামল চন্দ্র দাস (৫২) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে সলিমগঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা।

রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার সলিমগঞ্জ বাজার নৌ-পথে এলাকার ধরাভাঙা মেঘনা নদীর তীর ভসমান অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান,রোববার উপজেলার সলিমগঞ্জ বাজার নৌ-পথের ধরাভাঙা মেঘনা নদী তীরে নিখোঁজের দুই দিন পর তাঁর অর্ধগলিত মরদেহ ভেসে ওঠে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েন। পরে খবর পেয়ে সলিমগঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। আজ (সোমবার ২ নভেম্বর) ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত শ্যামল চন্দ্র দাস,পার্শ্ববর্তী নরসিংদী রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের রহিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা। তিনি প্রায় ১০বছর ধরে রায়পুরা নেসলে বাংলাদেশ পিএলসি” কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটরের অধীনে সেলসম্যানের চাকুরি করতেন,প্রতি সপ্তাহ একদিন ডিস্ট্রিবিউটরের পয়েন্ট থেকে পণ্য নিয়ে নৌপথে আলোকবালী, বাখরনগর ও মোড়াদনগর বাজারে সরবরাহের কাজ করতেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১০বছর ধরে তাঁর যাতায়াতের সঙ্গী ছিলেন খোদাদিল্লা গ্রামের নৌকার মাঝি রেজন মিয়া ও তাঁর ছেলে জহিরুল, গত ৩০ অক্টোবর (শুক্রবার) সকাল ৮টার দিকে রেজন মাঝির ছেলে জহিরুলকে সঙ্গে নিয়ে মনিপুরা ঘাট থেকে আলোকবালির উদ্দেশ্যে রওনা দেন শ্যামল চন্দ্র দাস। পণ্য সরবরাহের কাজ শেষে দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটের দিকে ডিস্ট্রিবিউটর পয়েন্টে ফোন করে জানান, তাঁর কাজ শেষ। একই নৌকায় ফিরবেন তিনি। কিন্তু এরপর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও শ্যামলের কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ডিস্ট্রিবিউটর পয়েন্টের লোকজন ও তার পরিবার, তাঁরা ছুটে যান রেজন মাঝির বাড়িতে। সেখানে তাঁর ছেলে জহিরুল জানান, শ্যামলকে দুপুর ১টার দিকে খোদাদিল্লা ঘাটে নামিয়ে দিয়েছেন। অথচ শ্যামলের নিয়মিত ফেরার কথা ছিল মনিপুরা ঘাটে। সন্দেহের সূত্র ধরে পুলিশের সহায়তায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে রেজন মাঝির ছেলে জহিরুল স্বীকার করে, সে শ্যামলকে মেঘনা নদীর মাঝপথে নীলক্ষার কিছু সন্ত্রাসীর হাতে তুলে দিয়েছিল। এই ঘটনা নিহতের ছোট ভাই বাদল দাস জানান, রেজন মাঝির ছেলে জহিরুল, ১০বছরের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই আমার বড় ভাই শ্যামল চন্দ্র দাসকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ডাকাত দলের হাতে তুলে দিয়েছি, মাল ডেলিভারির টাকা ছিনিয়ে নিয়ে আমার ভাইয়ে কপালে গুলি করে নিঃসঙ্গতভাবে খুন করে মেঘনা নদীতে ফেলে দিয়েছে ডাকাত দল, অভিযোগ বাদল দাস, তার পরিবার। এই ঘটনায় নৌকার মাঝি জহিরুলকে আটক করেছে নরসিংদী সদর থানা পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেকের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে সলিমগঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর নূর হায়দার তালুকদার বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে আজ সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত কপালে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়া দিন রয়েছে।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top