প্রথম আলোর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে হঠাৎ শুধু ‘স্যরি’ লিখে একটি পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা। পোস্টটি ঘিরে পাঠকদের মধ্যে তৈরি হয় কৌতূহল ও বিভ্রান্তি। কেউ পেজ হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা করেন, আবার কেউ এটিকে বিশেষ কোনো প্রচারণার অংশ বলে ধারণা করেন। পরে জানা যায়, এর পেছনে রয়েছে প্রথম আলোর রম্য সাময়িকী ‘রস+আলো’র একটি বিশেষ আয়োজন।
পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই ফেসবুকে নানা ধরনের মন্তব্য করতে থাকেন ব্যবহারকারীরা। কেউ বিষয়টিকে নিছক রসিকতা হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ এর পেছনের বার্তা জানার চেষ্টা করেছেন।
ফেসবুকে মির্জা হাসিব নামের একটি আইডি থেকে দেওয়া মন্তব্যেও উঠে আসে এমন কৌতূহল। তিনি লেখেন, প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল প্রথম আলোর পেজ হ্যাক হয়েছে। পরে রস+আলোর সাম্প্রতিক প্রচ্ছদে সাদা রঙের সঙ্গে ‘স্যরি’ শব্দটি দেখে তিনি এটিকে প্রচারণার অংশ বলে ধারণা করেন।
‘স্যরি’ পোস্টের পেছনে রস+আলোর আয়োজন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম আলোর ফেসবুক পেজে শুধু ‘স্যরি’ লেখার পোস্টটি কোনো হ্যাকিং বা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে দেওয়া হয়নি। এটি ছিল রস+আলোর একটি বিশেষ সংখ্যাকে ঘিরে পরিকল্পিত প্রচারণার অংশ।
রস+আলোর ওই সংখ্যার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘আইডিয়া সংকট’। দেশের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও তেলসহ বিভিন্ন খাতে সংকটের মতো নতুন ও আকর্ষণীয় রম্য ভাবনা তৈরির ক্ষেত্রেও সংকট দেখা দিয়েছে—এমন বিষয়কে হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরাই ছিল আয়োজনটির উদ্দেশ্য।
পাঠকদের চমকে দেওয়ার প্রচারণা
রস+আলোর পক্ষ থেকে পাঠকদের উদ্দেশে জানানো হয়, উপযুক্ত আইডিয়া খুঁজে না পাওয়ায় এবারের সংখ্যায় পাঠকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আনন্দ দিতে পারেননি তারা। সেই ‘আইডিয়া সংকটের’ বিষয়টিই ভিন্নভাবে তুলে ধরতে ফেসবুক পেজে শুধু ‘স্যরি’ লিখে পোস্ট করা হয়।
সংক্ষিপ্ত এই পোস্টটি পাঠকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করে এবং দ্রুত আলোচনায় আসে। শুরুতে অনেকে এর কারণ বুঝতে না পারলেও পরে এটি রস+আলোর নতুন সংখ্যার প্রচারণামূলক কৌশল হিসেবে সামনে আসে।
অর্থাৎ, প্রথম আলোর পেজে হঠাৎ ‘স্যরি’ লেখার পেছনে হ্যাকিংয়ের ঘটনা নয়, বরং রস+আলোর ‘আইডিয়া সংকট’ থিমের বিশেষ রম্য আয়োজনের প্রচারণাই ছিল মূল কারণ।


