পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় মাত্র ৫০০ টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষকের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে মো. আল-মামুন নামে এক শিক্ষক আহত হয়েছেন। মারধরের ঘটনায় তাঁর একটি চোখ ফুলে গেছে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।
জানা গেছে, আহত মো. আল-মামুন ওরফে মামুন গাজী ওই মাদ্রাসার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত। অপরদিকে, অভিযুক্ত মো. মিরাজ হোসেন একই মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (আইসিটি)। পাশাপাশি তাঁর একটি বিকাশের দোকান রয়েছে।
আহত মামুন গাজীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মিরাজ হোসেনের বিকাশের দোকান থেকে ৫০০ টাকা ধার নিয়েছিলেন। পরদিন মাদ্রাসায় গেলে মিরাজ তাঁর কাছে ওই টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
মঙ্গলবার সকালে অন্য শিক্ষকদের উপস্থিতিতে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে আবারও পাওনা টাকা চান মিরাজ। এ সময় দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মামুন অফিস কক্ষ থেকে বের হয়ে কম্পিউটার কক্ষে কাজ করতে গেলে সেখানে গিয়ে মিরাজের সঙ্গে তাঁর হাতাহাতি হয়। এতে মামুনের একটি চোখ ফুলে যায়। পরে তিনি চিকিৎসার জন্য বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মিরাজ হোসেন বলেন, ‘আমি তাঁর কাছে টাকা পাব। সেই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই ঝামেলা হয়েছে। এটি আমাদের ব্যক্তিগত বিষয়। পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করছি।
মাদ্রাসার সুপার মো. আলিউল্লাহ মুঠোফোনে জানান, তিনি প্রশিক্ষণের কারণে বরিশালে অবস্থান করছেন। ২৬ তারিখ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত তাঁর প্রশিক্ষণ চলবে। ঘটনাটি তাঁকে ভাইস প্রিন্সিপাল জানিয়েছেন। ব্যক্তিগত লেনদেন নিয়ে অফিস কক্ষে কথা-কাটাকাটি এবং পরে কম্পিউটার কক্ষে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার অনাদি কুমার বাহাদুর বলেন, ‘বিষয়টি ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনের বিরোধ হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। সুপার প্রশিক্ষণ শেষে ফিরলে ম্যানেজিং কমিটির সভায় দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান বলেন, ‘দুই শিক্ষকের মারামারির বিষয়টি শুনেছি। খোঁজ নিয়ে দেখছি।




