বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, সাবেক গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যা খুশি তাই করেছেন। এই সময় তিনি একের পর এক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছেন। যা বাংলাদেশ ব্যাংকের মূলনীতির পরিপন্থি। আহসান এইচ মনসুরের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, আর্থিক বিধি লঙ্ঘন ও স্বার্থের সংঘাতের একাধিক অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মর্যাদা ও সুশাসন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে- এমন অভিযোগ তুলে বিষয়গুলো তদন্তে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। পর্ষদের অনুমোদন ও চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে সাবেক গভর্নর আহসানউল্লাহকে উপদেষ্টা হিসেবে পুনর্নিয়োগ দেওয়ায় নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের উপেক্ষা করে বাস্তবজ্ঞানহীন ও ব্যয়বহুল পরামর্শকদের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা ব্যাংকের কর্মপরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এসব বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের লিখিত অভিযোগ এবং ক্রমবর্ধমান প্রশাসনিক অস্থিরতাই শেষ পর্যন্ত গভর্নরের বিদায়ের পথ প্রশস্ত করে। কাউন্সিলের চিঠিতে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে এক্সিকিউটিভ ফ্লোরের প্রবেশদ্বারগুলো তালাবদ্ধ করা এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগের পথ রুদ্ধ করায় তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। কর্মকর্তারা একে নজিরবিহীন ও অপমানজনক বলে মনে করছেন। তাদের আশঙ্কা, স্বার্থবিরোধী ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো একতরফাভাবে চাপিয়ে দিতেই গভর্নর পরিকল্পিতভাবে এ প্রশাসনিক দূরত্ব তৈরি করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার ও পদোন্নতি নিয়ে কাউন্সিলের সুপারিশ এবং গভর্নরের প্রতিশ্রুতি দীর্ঘ সময় ধরে উপেক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকে প্রায় ২ হাজার প্রথম শ্রেণির পদ এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদ শূন্য থাকলেও পদোন্নতি আটকে রেখে যোগ্য কর্মকর্তাদের অবহেলিত রাখা হয়েছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গত ১৮ মাসে সৃষ্ট এই প্রশাসনিক স্থবিরতা ও কৃত্রিম জনবল সংকট কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অস্থিরতা তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল ও ধ্বংস করার চেষ্টা করেছেন গত ১৮ মাস। তাঁদের মতে, সাবেক গভর্নরের চরম স্বেচ্ছাচারিতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঐতিহ্য নষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে একটা এনজিও বানিয়ে ফেলতে চেয়েছিলেন আহসান মনসুর। এ কারণেই বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ঘৃণিত ও ধিক্কৃত গভর্নর হিসেবে বিবেচিত হবেন বহু বছর।