প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক মেয়েদের পক্ষ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। ক’দিন আগেই এক্সের মালিক বলেছিলেন, আমি হোয়াটসঅ্যাপকে বিশ্বাস করি না। এবার তিনি মন্তব্য করলেন, ‘ইনস্টাগ্রাম মেয়েদের জন্য’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভ্যাস ও অনলাইন ট্রেন্ড-সম্পর্কিত একটি ভাইরাল থ্রেডের জবাবে এক্সে ইলন মাস্ক এ মন্তব্য করেন। ওই থ্রেডে মানুষের অনলাইন অভ্যাস কীভাবে তাদের জীবনের বিভিন্ন ‘পর্যায়’ ফুটিয়ে তোলে, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল।
ওই আলোচনায় ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন জনপ্রিয় প্রবণতার কথা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে ছিল আবেদনময়ী ছবি পোস্ট করা, নিয়মিত স্টোরি আপলোড এবং ঘরে তৈরি খাবারের ছবি শেয়ার করা।পরে মাস্ক আরেকটি মন্তব্য যোগ করে বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষেরা যখন তাকে তাদের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল পাঠান, তখন তার মনে প্রশ্ন জাগে তারা কি ‘লিঙ্গ পরিবর্তনের (ট্রানজিশনিং) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন নাকি অন্য কিছু।
তিনি লেখেন, স্বাভাবিকভাবেই। মাঝেমধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষেরা আমাকে তাদের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল পাঠায় আর আমি ভাবি, আপনারা কি লিঙ্গ পরিবর্তন করছেন নাকি অন্য কিছু?
তার এ মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী একে লিঙ্গবৈষম্যমূলক (সেক্সিস্ট) ও আপত্তিকর বলে সমালোচনা করেন।
এক নেটিজেন লিখেছেন, একজন ৫৪ বছর বয়সী পুরুষের ‘এলএমএও’ (Lmao) বলাটা একটা মেয়ের চেয়েও বেশি ইনস্টাগ্রামসুলভ আচরণ।
অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, এই প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষেরা বাস্তবে নারীও হতে পারেন, যারা আপনাকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছেন। ওখানে ভুয়া ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না।
আরেক ব্যবহারকারী লিখেছেন, পুরুষদের জন্য ‘ব্রোস্টাগ্রাম’ নামে আলাদা একটি অ্যাপ থাকা উচিত। কারণ, এটি তাদের মুখ বাঁকিয়ে ছবি তোলা (পাউট), হালকা আলো এবং আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ৪৭টি সেলফি তোলার বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করতে পারবে।
আরেকটি মন্তব্যে বলা হয়, হ্যাঁ, অবশ্যই আপনি যদি এটির (ইনস্টাগ্রাম) মালিক হতেন, তবে এটি হতো ‘সুপার ডুপার আলফা পুরুষালি পুরুষদের’ জন্য…তাই না ইলন?
ইলন মাস্ক প্রায়ই মেটার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি এক্সকে বিকল্প ও বেশি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরেন।
এর আগে মাস্কের সন্তান ভিভিয়ান জেনা উইলসন নিজের লিঙ্গ পরিবর্তনের বিষয়টি প্রকাশ্যে জানান এবং আইনগতভাবে নাম ও পরিচয় পরিবর্তন করেন। পরে তিনি মাস্কের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণাও দেন। ২০২২ সালে তিনি আইনগতভাবে নিজের নাম ও লিঙ্গ পরিবর্তন করেন এবং ঘোষণা দেন, তিনি কোনোভাবেই মাস্কের সঙ্গে ‘কোনো প্রকারে, রূপে বা আকারে’ সম্পর্কযুক্ত থাকতে চান না।
এ প্রসঙ্গে মাস্ক অতীতে ‘ওক কালচার’ বা অতিরিক্ত সচেতনতার সংস্কৃতিকে দায়ী করেছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, আমি ‘ওক মাইন্ড’ ভাইরাসকে ধ্বংস করার শপথ নিয়েছিলাম। আমরা এ বিষয়ে কিছুটা অগ্রগতিও অর্জন করছি।












