শিক্ষার্থীদের ওপর দিল্লি পুলিশের ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের’ অভিযোগ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের জরুরি শুনানিতে সাফ মানা করে দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এ ধরনের বিষয়ে বিচারবিভাগকে টেনে আনা অনুচিত। প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ আবেদনকারীর উদ্দেশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সবের মধ্যে আদালতকে জড়াবেন না। আদালত জরুরি ভিত্তিতে শুনানি করতে রাজি না হয়ে আগামী বুধবারে বিষয়টি তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।
এর আগে সোমবার শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে দাবি করে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন ‘কাকরোজ জনতা পার্টি’ আয়োজিত এই বিক্ষোভ মিছিলটি ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সংসদের দিকে যাত্রা করছিল। সাম্প্রতিক নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনা নিয়ে আদালত চত্বরে তীব্র তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
প্রতিবাদের সূত্রপাত হয় গত শনিবার, যখন এই আন্দোলনের অন্যতম সমর্থক জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুককে একুশ দিনের অনশনরত অবস্থা থেকে জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরই সোমবার নিউ দিল্লির কেন্দ্রস্থল যন্তর মন্তরে হাজার হাজার তরুণ শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ গড়ে তোলে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই সমাবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ, যার জবাবে বিক্ষোভকারীরা পাথর ছুড়ে মারে। বেশ কয়েকটি স্থানে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জও করে।
পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই সংঘর্ষে অন্তত ১৭৮ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১১৮ জনই পুলিশ সদস্য। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ‘উগ্র ও সহিংস আচরণের’ অভিযোগ এনে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা বাধ্য হয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারী সংগঠনের মুখপাত্র এই পুলিশি অ্যাকশনকে ‘ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক লজ্জাজনক দিন’ বলে অভিহিত করেছেন। সংগঠনটির দাবি, শত শত নিরপরাধ শিক্ষার্থী পুলিশের বর্বরতায় গুরুতর আহত হয়েছে।
গত মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি একটি মামলার শুনানিকালে কিছু বেকার তরুণকে রূপক অর্থে ‘কাকরোজ’ বা তেলাপোকার সাথে তুলনা করেছিলেন। সেই মন্তব্যকে কটাক্ষ হিসেবে গ্রহণ করেই তৈরি হয় এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন, যা পরবর্তীতে লাখ লাখ তরুণ ও চাকরিপ্রত্যাশীর দাবির প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে সংগঠনটি।
সূত্র: এনডিটিভি











