ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলা ও আশপাশের গ্রামগুলোতে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। দিন-রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
​স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে জীবননগর পৌর এলাকাসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে প্রতি ১-২ ঘণ্টা পরপর ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এছাড়া রাতেও একাধিকবার লোডশেডিং হওয়ায় গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কৃষকরা জানান, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ধান ও সবজি ক্ষেতে ঠিকমতো সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি মিল-কারখানা ও দোকানপাটে ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটার পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে।
​স্থানীয় ক্ষুব্ধ এক বাসিন্দা জানান, “দিনে রাতে ৮-১০ বার লোডশেডিং হয়। জেনারেটরের তেল কিনে ব্যবসা করা সম্ভব না। বিল ঠিকই নিচ্ছে কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সেবা নেই।” লোডশেডিংয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি না থাকায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেশি বাড়ছে।
বর্তমান সময়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা এবং অনার্স পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এমনিতেই গরমের তীব্রতা, তার ওপর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পরীক্ষার্থীরা মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে ঠিকমতো পড়ালেখা করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া পরীক্ষার দিনে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্র বা প্রস্তুতিতেও নানা জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে, যা তাদের শিক্ষাজীবন ও মানসিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
​এ বিষয়ে কাঠালিয়া “ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড” (ওজোপাডিকো)-এর বিদ্যুৎ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রকৌশলী আব্দুল আলিম বলেন, “জনগণ আমাদের ওপর বিরক্ত হলেও আমাদের কিছু করার নেই। আমরা চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর লোডশেডিং দিয়ে সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছি।”
​তিনি আরও জানান, কাঠালিয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩.৮ মেগাওয়াট, অথচ বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১.৫ থেকে ২ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই লোডশেডিং অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
​চলমান পরীক্ষাগুলোর কথা বিবেচনা করে দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন এলাকার শিক্ষার্থী ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *