দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগে যখন উচ্ছ্বসিত হওয়ার কথা পাবনাবাসীর, তখন ট্রেনটির নামকরণ নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক। প্রস্তাবিত ‘সপ্তপদী এক্সপ্রেস’ নাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রেনটির নাম ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ করার দাবি জানিয়েছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয়দের দাবি, ঢাকা-পাবনা রুটে চলাচলকারী একটি আন্তঃনগর ট্রেনের নামের সঙ্গে পাবনার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরিচয়ের সরাসরি যোগসূত্র থাকা উচিত। কিন্তু ‘সপ্তপদী এক্সপ্রেস’ নামটি পাবনার নিজস্ব পরিচয়কে তুলে ধরে না—এমন অভিযোগ তাদের।
মূলত কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন অভিনীত ‘সপ্তপদী’ চলচ্চিত্রের নাম থেকেই ট্রেনটির নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। আর এ বিষয়টিই নামকরণ নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
পাবনাবাসীর একটি অংশের বক্তব্য, সুচিত্রা সেনের জন্ম ও শৈশবের স্মৃতি পাবনার সঙ্গে যুক্ত হলেও জেলার মানুষের প্রত্যাশা ছিল—ঢাকা-পাবনা রুটের নতুন ট্রেনটি এমন একটি নাম বহন করবে, যা সরাসরি পাবনার পরিচয়কে ধারণ করবে। তাদের মতে, সুচিত্রা সেনকে ঘিরে আবেগ ও ঐতিহ্য থাকলেও তার নামে বা তার অভিনীত চলচ্চিত্রের নামে ট্রেনের নামকরণ করা হলে সেটি পাবনার সামগ্রিক ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করবে না।
স্থানীয়দের কেউ কেউ আরও বলছেন, সুচিত্রা সেন পাবনার মানুষের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো প্রত্যক্ষ অবদান রাখেননি—এমন বিবেচনায় তারা তার কোনো পরিচয় বা চলচ্চিত্রের নামকে নতুন ট্রেনের পরিচয় হিসেবে বহন করতে চান না। তাদের দাবি, ব্যক্তিকেন্দ্রিক নামের পরিবর্তে জেলার নামেই ট্রেনটির পরিচিতি দেওয়া হোক।
তাদের ভাষ্য, ঢাকা-পাবনা সরাসরি রেল যোগাযোগ পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের ফল। এই ট্রেন শুধু রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগের নতুন দ্বার খুলবে না, বরং শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই ট্রেনটির নামেও পাবনার মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ও আঞ্চলিক পরিচয়ের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন।
ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘পাবনা এক্সপ্রেস চাই’ দাবিতে সরব হয়েছেন অনেকে। তাদের বক্তব্য, একটি জেলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ট্রেনের নাম সেই জেলার পরিচয় বহন করলে দেশজুড়ে ওই জেলার ব্র্যান্ডিং ও পরিচিতিও আরও শক্তিশালী হয়।
এদিকে নতুন কোচ সংযোজনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে ঢাকা-পাবনা রুটে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর প্রস্তুতি চলছে। চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই ট্রেনটি চালুর পরিকল্পনার কথা সংশ্লিষ্ট মহল থেকে জানানো হয়েছে। ফলে ট্রেন চালুর আগেই নাম পরিবর্তনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
পাবনাবাসীর দাবি, রেল কর্তৃপক্ষ যেন নামকরণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে। তাদের প্রত্যাশা—‘সপ্তপদী এক্সপ্রেস’ নয়, জেলার মানুষের আবেগ, ইতিহাস ও পরিচয় ধারণ করে নতুন ট্রেনটির নাম দেওয়া হোক ‘পাবনা এক্সপ্রেস’।
তাদের প্রশ্ন একটাই—“ঢাকা-পাবনা রুটের ট্রেন, তাহলে নামের সঙ্গে পাবনার পরিচয় থাকবে না কেন?”




