দীর্ঘদিনের প্রদাহ শুরুতে সব সময় বড় কোনো লক্ষণ নাও দেখা যেতে পারে। ধীরে ধীরে অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, জয়েন্ট ব্যথা বা শক্ত ভাব, বারবার জ্বর, পেটের সমস্যা, ওজন কমা বা বেড়ে যাওয়া, ত্বকে র্যাশ কিম্বা বারবার সংক্রমনের মত সমস্যা দেখা দিতে পারে যেমনঃ–
*রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস সহ বিভিন্ন অটোমিউন রোগ
*হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ
*টাইপ-২ ডায়াবেটিস
*হাঁপানি ও copd -এর মত ফুসফুসের রোগ
*ক্রোহনস ডিজিস ও অন্যান্য প্রদাহ জনিত অন্ত্রের রোগ
*সোরিয়াসিস
*কিছু নিউরোডিজনারেটিভ রোগ, যেমন আলঝেইমার ও পারকিসনের সঙ্গে প্রদাহকে নিয়ে গবেষণা রয়েছে
*কিছু নির্দিষ্ট ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে
দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। যেমন….শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অতিরিক্ত ওজন বিশেষ করে পেটের ভেতরের অতিরিক্ত চর্বি, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, ঘুমের অনিয়ম, ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। এছাড়া অটোইমিউন রোগ, দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ বা রোগের কারণও প্রদাহ চলতে পারে।
রোগ নির্ণয় পরীক্ষা নিম্নরূপ
*CRP
*ESR, CBC
*কিডনি পরীক্ষা
*অটোইমিউন
*মল পরীক্ষা
*আল্ট্রাসনোগ্রাম
*এক্সরে /CT/MRI
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ- কোন পরীক্ষা লাগবে তা রোগের লক্ষণ ও সম্ভাব্য কারণ এর উপরে নির্ভর করে।
প্রদাহের চিকিৎসা একটি নির্দিষ্ট ওষুধ দিয়ে সবার ক্ষেত্রে করা যায় না। প্রথমে প্রদাহের কারণ খুঁজে বের করা জরুরী। অবশ্যই কোন বিশেষজ্ঞের অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে চলতে হবে চিকিৎসা নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মতামত, শরীরের দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, জয়েন্ট ব্যথা বা শক্ত ভাব, বারবার জ্বর, দীর্ঘ মেয়াদী পেটের সমস্যা, অকারণে ওজন পরিবর্তন বা অন্য কোন দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ থাকলে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রদাহের কারণ সনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা করাই সবচাইতে নিরাপদ পথ



