পরিবেশ দূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের সংকট

বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণ এবং জলাবদ্ধতা দিন দিন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর অন্যতম কারণ অপচনশীল বর্জ্যের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব। প্যানাফ্লেক্স ব্যানার, প্লাস্টিকের প্যাকেট, খালি বোতল এবং বিভিন্ন ধরনের পলিথিনজাত বর্জ্য বছরের পর বছর পরিবেশে থেকে যায়, যা ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ায়।

পরিবেশবিদরা বলছেন, শুধুমাত্র অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত স্থানের বাইরে গৃহস্থালি, ইলেকট্রনিক ও শিল্পবর্জ্য ফেলার প্রবণতা এখনও উদ্বেগজনক। ফলে শহর ও গ্রাম উভয় এলাকাতেই পরিবেশগত সমস্যা ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করছে।

সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, তরুণ সমাজ, রোভার স্কাউট, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা গেলে পরিবেশ সংরক্ষণ আন্দোলনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

অন্যদিকে, দেশের সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। অনেক স্থানে এসব যানবাহনের চলাচল নিয়ে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো পরিবহন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কার্যকর নীতিমালা, নিবন্ধন এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

রাজধানীসহ দেশের কিছু এলাকায় আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার সুফল দেখা গেলেও অধিকাংশ স্থানে এখনও ট্রাফিক শৃঙ্খলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা এবং নিয়মভঙ্গের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিবেশ দূষণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে অতিরিক্ত প্যানাফ্লেক্স, ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রচারণায় বিপুল পরিমাণ প্যানাফ্লেক্স ব্যবহৃত হয়, যা পরবর্তীতে বর্জ্যে পরিণত হয়ে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পরিবেশবিদদের মতে, এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা ও বিকল্প পরিবেশবান্ধব প্রচারমাধ্যম ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; নাগরিক দায়িত্ববোধ, আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক অংশগ্রহণের সমন্বিত প্রচেষ্টাই হতে পারে টেকসই সমাধানের পথ

Tags:

সম্পর্কিত খবর :