“আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছি, আত্মহত্যা করব… তোর সাথে কথা শেষ হলেই বিষ খাবো” এমন কথাই ফোনে সহকর্মী সাখাওয়াত হোসেনকে জানিয়েছিলেন মেহেদী হাসান রানা (৩৫)।
কথামতো শেষ পর্যন্ত বিষপানও করেন তিনি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত রানা রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জংগল ইউনিয়নের অলংকারপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বালিয়াকান্দি রিপোর্টার্স ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও সিনিয়র সাংবাদিক জাহিদুর রহিম মোল্লার বড় ছেলে।
সহকর্মী সাখাওয়াত হোসেন জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রানা তাকে ফোন করেন। কথোপকথনে রানা বলেন, “সবার থেকে তোকে বেশি ভালোবাসি, এজন্যই বলছি আমি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি এখন লিয়াকত আলী স্কুলের পেছনে আছি। তোর সাথে কথা শেষ হলেই বিষ খাবো। তোদের সাথে কোনো ভুল করে থাকলে মাফ করে দিস।”
সাখাওয়াত আরও জানান, তিনি রানাকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন এবং নিজের বাসায় এসে থাকার কিংবা ঢাকায় গিয়ে নতুনভাবে কাজ শুরু করার পরামর্শ দেন। এছাড়া তার দুই সন্তানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে অনুরোধ করেন। কিন্তু রানা জানান, “আমি সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলছি, বিষের বোতল আমার হাতে।”
ফোন কেটে দেওয়ার পর বিষয়টি অন্যদের জানান সাখাওয়াত। তবে ততক্ষণে দেরি হয়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রানা নারুয়া বাজার থেকে বিষ কিনে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পান করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন রানা। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল এবং তিনি কিছু মানসিক সমস্যায়ও ভুগছিলেন। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।
এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।












