সাম্প্রতিক
টানা ভারী বর্ষণে বেনাপোল বন্দরের কোটি টাকার পণ্য তলিয়ে গেছে পানিতে ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘বাভি’ সরানো হলো ৬ লাখের বেশি মানুষ ওরা আমাকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিচ্ছে বেনাপোলে বিদেশী পিস্তল ও গুলিসহ অস্ত্র উদ্ধার বন্যা মোকাবিলায় চকরিয়া-মাতামুহুরীতে ১৯ মেডিকেল টিম, কার্যক্রম পরিদর্শনে সিভিল সার্জন গরু চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার আর্জেন্টিনা সমর্থক, উদ্ধার ১৭ গরু রামিসা, আছিয়া ও হাদী হত্যার বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে চিঠি পানির স্রোতে কবরস্থানে ভেসে উঠল ৩ লাশ স্বতন্ত্র রাজনীতি না করলে এনসিপির নতুন বন্দোবস্তের আশা পুরোপুরি শেষ : রাশেদ খান শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের অনুরোধ

বগুড়ায় হাসি-কান্না আর নাটকীয়তায় সম্পন্ন হলো এসএসসি পরীক্ষা

বগুড়া জেলায় নানা আলোচনা, সমালোচনা এবং কিছু নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার জেলার ৭৭টি কেন্দ্রে মোট ৩৭ হাজার ২০১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তবে পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত প্রশ্নপত্র বিভ্রাট, পরীক্ষার্থী বহিষ্কার এবং এক পরীক্ষার্থীর জন্য বিশাল প্রশাসনিক প্রহরার মতো ঘটনাগুলো ছিল জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
বগুড়া জেলা প্রশাসকের শিক্ষা শাখা সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ২০১ জন। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষায় ২৬ হাজার ৫৮২ জন, দাখিল পরীক্ষায় ৭ হাজার ৮৯৭ জন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ২ হাজার ৭০২ জন এবং দাখিল (ভোকেশনাল) ২০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। জেলার ৩৯টি কেন্দ্রে এসএসসি, ১৯টি কেন্দ্রে দাখিল এবং ১৮টি কেন্দ্রে ভোকেশনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পরীক্ষা চলাকালীন সবচেয়ে বড় ভুলের ঘটনাটি ঘটে শেরপুর উপজেলার শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে। সেখানে ১০১ ও ১০২ নম্বর কক্ষে ২৯ জন নিয়মিত দাখিল পরীক্ষার্থীর হাতে ভুলে অনিয়মিত (পুরোনো সিলেবাসের) এমসিকিউ প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে হল সুপার ও চার কক্ষ পরিদর্শককে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সোনাতলা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রে ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষায় সেট কোড নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। নির্ধারিত ‘সেট-১’ এর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় ‘সেট-৩’ এর প্রশ্ন। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কেন্দ্রের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রতিবাদ জানান। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত ৬৯৮ জন পরীক্ষার্থীর খাতা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
এবারের পরীক্ষায় সবচেয়ে আলোচিত ও ব্যতিক্রমী ঘটনাটি ঘটে শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে। সেখানে হিসাববিজ্ঞান পরীক্ষায় নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন। তবে শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম মেনে ওই একজন পরীক্ষার্থীর জন্যই পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। একজন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নিতে ওই কেন্দ্রে নিয়োজিত ছিলেন একজন ট্যাগ অফিসার, কেন্দ্র সচিব, কক্ষ পরিদর্শক, সহকারী শিক্ষক, একজন পুলিশ সদস্য এবং দুজন অফিস সহায়কসহ মোট ৮ জন কর্মকর্তা। প্রশাসনের এই বিশাল আয়োজন এলাকায় বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করে।
এদিকে, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ধুনট উপজেলায় এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ধুনট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় পদার্থ বিজ্ঞান-২ বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালীন মানিক মিয়া নামের ওই শিক্ষার্থীকে নকলসহ হাতেনাতে ধরেন ইউএনও আরিফ উল্লাহ নিজামী। নিয়ম অনুযায়ী তাকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পরীক্ষা শেষ হলেও আলোচনা থামেনি ভুল প্রশ্নপত্র আর অব্যবস্থাপনা নিয়ে। তবে এই ত্রুটির মাশুল যেন কোনো শিক্ষার্থীকে দিতে না হয়, সেজন্য বদ্ধপরিকর শিক্ষা বোর্ড। ক্ষতিগ্রস্ত খাতাগুলো বিশেষ বিবেচনায় মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। জেলা প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, সার্বিকভাবে পরীক্ষা সফল হলেও দায়িত্বহীনতার কোনো ছাড় নেই। কেন্দ্র সচিবদের আরও জবাবদিহিতার আওতায় এনে আগামীতে একটি সুষ্ঠু পরীক্ষা পদ্ধতি উপহার দেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য।

Tags:

সম্পর্কিত খবর :