মোহনগঞ্জ পৌরসভার সবকটি সড়কে অটোরিকশার দাপট। সড়কের ধারণ ক্ষমতার অধিক অটোরিকশা সকাল থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত মোহনগঞ্জ বাজারে এলোপাতাড়ি চলাচল করে। কিছু অটো স্ট্যান্ডের নিয়ম মেনে মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মোড় হতে বারহাট্টা, বিএনপি অফিস মোড় হতে সমাজ কয়রাপাড়া, সহিলদেও, মাইলোড়া মোড় হতে আদর্শ নগর, থানার মোড় হতে তেতুলিয়া, বসুন্ধরা মোড় হতে ধর্মপাশা চলাচল করে।
কিন্তু অধিকাংশ অটোরিকশা পৌর শহরের ভিতরে টাউন টিপ দিতে অবস্থান করে। যার ফলে প্রতিটা রাস্তা ও মোড়ে মোড়ে যাত্রী পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকে তারা। রাস্তার দুই পাশেই অটো অবস্থান বা যাত্রী উঠা নামার ফলে, রাস্তার সীমাবদ্ধা কমে আসে। যার ফলে অল্প জায়গা ধরে যাত্রী নিয়ে যাওয়া অটোরিকশা চলতে না পেরে তৈরি হয় যানজট। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে পড়ে। অতি প্রয়োজনে বাজারে আসা নারী, শিশু, বৃদ্ধরা এক দোকান থেকে যানজট পার হয়ে অন্য দোকানে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
দিন ব্যপি এমন যানজটে পৌর বাসীর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে।
রৌদ্র অথবা তাপমাত্রা বেশি থাকলে অনেক বৃদ্ধ বয়সের মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাসপাতালে জরুরি রোগী এলে যদি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে রেফার করে তাহলে হাসপাতাল থেকে এম্বুলেন্স বের হয়ে বসুন্ধরা মোড়ে যানজটে পড়ে। সেখান থেকে বের হলে বিএনপি অফিস মোড়ে সেখান থেকে বের হলে পাইলট স্কুলের মোড়ে যানজটে পড়ে। এই যানজট বের হতে কয়েক ঘন্টা সময় নষ্ট হয়। এতে অনেক হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোক করা রোগী ময়মনসিংহ নেওয়ার আগেই রাস্তায় গাড়ীতে মারা যায়। জরুরি ময়মনসিংহ মেডিকেলে রেফার হওয়া অনেক প্রসুতি যানজটে আটকে থেকে গাড়ির ভিতরে প্রসব হয়।
এমন বাস্তবতা নিয়ে মোহনগঞ্জে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও উদ্বিগ্ন। উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় শত শতবার এই একটি বিষয় নিরসনের জন্য বক্তব্য রেখছেন। প্রশাসন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করলেও সঠিক কোন সুরাহা দিতে পারেনি।
যানজট নিরসনে নেই কোনো ট্রাপিক পুলিশ। পৌরসভার বাজেটেও নেই এর নিরসনে কোন বরাদ্দ। মোহনগঞ্জে অটোরিকশা অব্যবস্থাপনার কারনে প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক মানুষের চরম ভোগান্তির হয়।
প্রতিটি অটোরিকশার থেকে হাজার হাজার টাকা লাইসেন্স বাবদ নিয়ে চলাচলের অনুমতি দেয় পৌরসভা। কিন্তু তার সুশৃঙ্খল পরিবেশে চলাচল বা যানজট নিরসনে কোনও দায়িত্ব নেয়নি তারা।
মোহনগঞ্জ বাসী এই যানজট নিরসনের জোর দাবী জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা খাতুন জানান, যানজট নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, আশা করি কয়েক মাসের মধ্যে যানজট নিরসন হবে




