মতপ্রকাশের জেরে মামলা: আবু তৈয়বের বিরুদ্ধে ঈদগাঁওয়ে সাংবাদিক ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মানববন্ধন

সংবাদ প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের জেরে আবু তৈয়বের মামলার প্রতিবাদে ঈদগাঁওয়ে মানববন্ধন
সংবাদ প্রকাশ ও মন্তব্যের জেরে আবু তৈয়বের মামলা, ঈদগাঁওয়ে সাংবাদিক-বিএনপি নেতাকর্মীদের মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সংবাদ প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নমত প্রকাশের জেরে সাংবাদিক ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন থেকে মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টায় ঈদগাঁও বাসস্টেশনস্থ পেট্রোল পাম্পের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, মামলার ভুক্তভোগী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পাশাপাশি অতীতে আবু তৈয়বের বিভিন্ন মামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা অসংখ্য নারীও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে মতামত প্রকাশের জেরে আবু তৈয়ব সাংবাদিক, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাইবার মামলা করেছেন। মানববন্ধনে বক্তারা এসব মামলাকে হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বক্তারা বলেন, কোনো সংবাদ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু মামলা দায়ের করে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের চাপের মধ্যে রাখা কিংবা মতপ্রকাশের পরিবেশ সংকুচিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তারা আরও বলেন, সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় গণমাধ্যমকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও কোনো অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। কোনো ব্যক্তিকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে যেন আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, মামলায় অভিযুক্তদের অনেকে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক মামলায় হয়রানি ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন। তাদের দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকে কেন্দ্র করে আবারও মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের হয়রানি করা অনাকাঙ্ক্ষিত।
বক্তারা মামলার বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্তদের হয়রানি বন্ধ ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ঈদগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইসলামাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্যানেল চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক, ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বিএনপি নেতা হামিদুল হক হামিদ, ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনর রশীদ, জালালাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুন সিরাজুল মোস্তফা, সাবেক যুবদল ও উপজেলা বিএনপি নেতা মোস্তফা আল আশরাফ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক শফিউল আলম শান্ত, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঈদগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জুনাইদ হাসান, ঈদগাঁও ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মহি উদ্দিন, যুবদল নেতা আলমগীর, ঈদগাঁও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম আয়ুবসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মানববন্ধনে স্থানীয় সাংবাদিকরাও বক্তব্য দেন। তারা বলেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হলে সেটি আইনগতভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে মামলা, চাপ কিংবা ভয়ভীতির মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঈদগাঁও উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক সেলিম উদ্দীন, দৈনিক আমার দেশ-এর ঈদগাঁও উপজেলা প্রতিনিধি ও সিনিয়র সংবাদকর্মী আনোয়ার হোসাইন, ঈদগাঁও উপজেলা অনলাইন প্রেস ক্লাবের সভাপতি মিছবাহ উদ্দীন, সিনিয়র সহসভাপতি হাফেজ বজলুল রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনসুর আলম, ঈদগাহ্ প্রেস ক্লাবের সভাপতি বশিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আশফাক উদ্দীন আরফাত, সাংবাদিক আবু বকর চৌধুরী, রবিউল আলম রবি, সংবাদকর্মী সেলিম আহমেদ ও চকরিয়ার সিনিয়র সাংবাদিক শাহরিয়ার মাহমুদ রিয়াদসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
এ সময় ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদিন, রুহুল আমিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকরা বলেন, কোনো সংবাদে আপত্তি থাকলে প্রতিবাদ, সংশোধনের দাবি কিংবা আইনি প্রতিকার নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে পেশাগতভাবে চাপে রাখা হলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য নেতিবাচক বার্তা তৈরি করে।
তারা সাংবাদিক মাহমুদুল করিমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানান। একই সঙ্গে মামলায় অভিযুক্ত সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অতীতের মামলার ভুক্তভোগী নারীদের উপস্থিতি
মানববন্ধনে আবু তৈয়বের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা কয়েকজন নারীও উপস্থিত ছিলেন। তারা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, বিভিন্ন সময় মামলা ও আইনি জটিলতার কারণে তারা হয়রানি ও মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছেন বলে তাদের অভিযোগ।
তারা অতীতের ঘটনাগুলোও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা সাংবাদিক মাহমুদুল করিমসহ মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা পুনর্বিবেচনা করে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সংবাদ প্রকাশ ও মতপ্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিক বা রাজনৈতিক কর্মী যাতে অযাচিত হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।
তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হয়নি। বাদী ও আসামিপক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই অভিযোগগুলোর আইনগত সত্যতা নির্ধারিত হবে।
মানববন্ধন শেষে আয়োজকরা জানান, শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে তারা প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন এবং সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করবেন।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন