২০ কোটি মানুষের জন্য স্বাস্থ্য কার্ড করার উদ্যোগ

২২শে আগষ্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব জিয়া হায়দার সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক কমকতাগন।বৈঠকের মূল আলোচনায় ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য স্থাপত্য গড়ে তোলা, যার আওতায় প্রায় ২০ কোটি মানুষের জন্য স্বাস্থ্য কার্ড, ইলেকট্রনিক রেফারেল ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড এবং ফার্মেসি ও ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিগুলোকে একটি সংযুক্ত ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি সংযোজন নয়; বরং দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য, সমন্বিত, তথ্যভিত্তিক ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
বৈঠকের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক দিক ছিল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় বিশ্বাস যে বাংলাদেশের তরুণ বিশেষজ্ঞদের মেধা, উদ্ভাবন ও স্থানীয় বাস্তবতার গভীর বোঝাপড়াকে কাজে লাগিয়েই আমাদের নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সমাধান তৈরি করতে হবে। দেশে ও দেশের বাইরে থাকা তরুণ বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের উদ্ভাবনী সক্ষমতার ওপর তাঁর আস্থা আমাদের জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের ডিজিটাল রূপান্তরে স্থানীয় মেধা ও উদ্ভাবনকে সামনে রেখে একটি ভবিষ্যৎমুখী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জনগণকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে আজকের আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হয়।
মোঃইকবাল হোসাইন

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

খুলনায় স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা: জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকার শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

অদ্য ২৬/০৮/২০২৬ রোজ বধবার সকাল ১০ ঘটিকা হতে খুলনা বিভাগে এইচপিভি টিকা এবং ইপিআই কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভাগীয় কর্মশালা, যেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শতভাগ কাভারেজ নিশ্চিত করার নির্দ.. খুলনা হোটেল সিটি ইনে আয়োজিত দিনব্যাপী এই পর্যালোচনা কর্মশালায় খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় প্রধানত জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে কিশোরীদের জন্য নির্ধারিত এইচপিভি টিকার সফল বাস্তবায়ন এবং ইপিআই কর্মসূচির পরিধি বিস্তারের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১০ বছর বয়সী সকল কিশোরীকে এই টিকার আওতায় নিয়ে আসার যে জাতীয় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা কীভাবে খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় শতভাগ সফল করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী দশ জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ এলাকার কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন, যা মূলত স্বাস্থ্যসেবার তৃণমূল পর্যায়ের সক্ষমতা ও বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ এবং ভুক্তভোগী ও লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর সচেতনতার অভাবকে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা জানিয়েছেন যে, এইচপিভি টিকা নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও তথ্যের ঘাটতি দূর করা না গেলে শতভাগ কাভারেজ অর্জন করা কঠিন। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র স্বাস্থ্য বিভাগের একক প্রচেষ্টায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল হওয়া সম্ভব নয়। তিনি মিডিয়ার ভূমিকা এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ইমামদের মাধ্যমে মসজিদের মুসল্লিদের অবহিত করলে টিকার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার অভাব বা গাফিলতি জনস্বাস্থ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তাই প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীকে আরও বেশি জবাবদিহিতার আওতায় আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।