শিবিরের সুশীলতার দায়ই শিবিরের অনেকে নেবে না: রাবি সভাপতিকে এক হাত নিলেন আম্মার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের দায় নেবে না বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। এ কথা বলার পর তাদের কড়া সমালোচনা করেছেন সালাহউদ্দিন আম্মার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আজ বুধবার এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘শিবির সুশীলতার সংগঠন হলে তার দায়ই তাদের অনেক মানুষ নেবে না।’

সালাহউদ্দিন আম্মার লিখেছেন, ‘আমার দায় নেবে না শিবির, এটা রাবি শিবির সভাপতিই বলেছেন। আমি তার আগেই বলি-শিবির আমার দায় নিলেই আমি সেটা মেনে নেব কেন? শিবির সুশীলতার সংগঠন হলে শিবিরের সুশীলতার দায়ই শিবিরের অনেক মানুষ নেবে না। এতকিছু মেনে নিতে চাইলে রাকসুতে শিবিরের প্যানেলে দাঁড়িয়ে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে জিততে পারতাম।’

তিনি বলেন, ‘নিজের শিরদাঁড়া উঁচু করে ১৫-২০ জন নিয়ে লড়াই করে বড় বড় রাজনৈতিক দলকে হারিয়ে রাকসুর জিএস হতে পারতাম না। ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা অন্তত জানে, আমার বিপরীতে কী পরিমাণ ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে এবং শিবিরের পক্ষ থেকে কী পরিমাণ চেষ্টা চালানো হয়েছে। আমার দায় নেওয়া লাগবে না ভাই, আমি আপনাদের দায় নিতেও বলিনি কখনো, প্রশ্নই আসে না।’

সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘তিনি আমার দাপ্তরিক খরচের ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ওনার আগে এই ব্যাপারটা নিয়ে একটু পড়াশোনা করা দরকার ছিল। এটার অ্যাকচুয়াল খাত হলো সংসদের মাসিক ব্যয় নির্বাহের খাত। (১২তম অধ্যায়, সাধারণ সম্পাদকের কলামের ৪ নম্বর পয়েন্ট)।’

‘এর মধ্যে রয়েছে সম্পাদকদের দাপ্তরিক খরচ, ভাউচার সমন্বয়, আপ্যায়ন, এমনকি রাকসু অফিসের প্রিন্টারের পেপার, চায়ের কেটলি থেকে শুরু করে প্রায় সংসদের সবকিছু যার খরচ রাকসুর সাধারণ সম্পাদকের বরাদ্দকৃত টাকা থেকেই নির্বাহ করা হয়। আমি তো এখনো হিসাবই দিইনি। উনি উড়ো খবর পড়ে প্রেস কনফারেন্স করেছেন। একটি বড় সংগঠনের সভাপতি হিসেবে তাঁর কাছে আরও ম্যাচিউরিটি আশা করেছিলাম’, যোগ করেন তিনি।রাকসু জিএস বলেন, ‘আমার কাছে এক টাকারও ভাউচার সংরক্ষিত আছে। অডিট শেষে সবকিছু উন্মুক্ত করে দিয়েই আমি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ। এর মধ্যে ছাত্রদলও নোংরামি করল, আজ ছাত্রশিবিরের সভাপতিও নোংরামি করলেন। আপনাদের হিসাব চাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় এখনো পড়ে আছে ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের যদি উদ্দেশ্য হয় মিথ্যা এলিগেশন ছড়ানো, তাহলে এগুলো চালিয়ে যেতে পারেন। আর যদি সত্যটা পরিষ্কার করার ইচ্ছা থাকে তাহলে জাস্ট দুই মাস অপেক্ষা করুন। এখনো সকল হিসাব ক্লোজ হয়নি।’

সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আপনি রাকসুর কিছু সম্পাদকের দায়িত্বশীল কিন্তু এখনো তাদের সাধারণ সম্পাদক তো আমি। আমি আমার কোনো সম্পাদকের ওপর কোনো ভাউচার চাপিয়ে দেব না। এটা অন্তত রাকসুর মতো জায়গায় সম্ভবও নয়। কোনো সংগঠনে এমন নিয়ম থাকলে থাকতে পারে। যাই হোক আর কটা দিন সবুর করেন প্লিজ! সব হিসাব সামনে আসুক। তারপর যার যা বলার নিশ্চিন্তে বলবেন।’

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

খুলনায় স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা: জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকার শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

অদ্য ২৬/০৮/২০২৬ রোজ বধবার সকাল ১০ ঘটিকা হতে খুলনা বিভাগে এইচপিভি টিকা এবং ইপিআই কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভাগীয় কর্মশালা, যেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শতভাগ কাভারেজ নিশ্চিত করার নির্দ.. খুলনা হোটেল সিটি ইনে আয়োজিত দিনব্যাপী এই পর্যালোচনা কর্মশালায় খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় প্রধানত জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে কিশোরীদের জন্য নির্ধারিত এইচপিভি টিকার সফল বাস্তবায়ন এবং ইপিআই কর্মসূচির পরিধি বিস্তারের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১০ বছর বয়সী সকল কিশোরীকে এই টিকার আওতায় নিয়ে আসার যে জাতীয় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা কীভাবে খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় শতভাগ সফল করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী দশ জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ এলাকার কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন, যা মূলত স্বাস্থ্যসেবার তৃণমূল পর্যায়ের সক্ষমতা ও বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ এবং ভুক্তভোগী ও লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর সচেতনতার অভাবকে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা জানিয়েছেন যে, এইচপিভি টিকা নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও তথ্যের ঘাটতি দূর করা না গেলে শতভাগ কাভারেজ অর্জন করা কঠিন। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র স্বাস্থ্য বিভাগের একক প্রচেষ্টায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল হওয়া সম্ভব নয়। তিনি মিডিয়ার ভূমিকা এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ইমামদের মাধ্যমে মসজিদের মুসল্লিদের অবহিত করলে টিকার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার অভাব বা গাফিলতি জনস্বাস্থ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তাই প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীকে আরও বেশি জবাবদিহিতার আওতায় আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।