প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি-পুলিশবাহিনী জনপ্রত্যাশিত বাহিনীতে পরিণত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের এই পুলিশবাহিনী জনপ্রত্যাশিত জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তাদের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

রাজধানীর নয়াপল্টনে আজ বুধবার বিএনপির উদ্যোগে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, রংপুরে একটি ঘটনা ঘটেছে, সেই ঘটনা সংগঠিত হওয়ার পর যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এরকম রামিসা হত্যা থেকে শুরু করে জাতীয়ভাবে যত ঘটনা আলোচিত হয়েছে, প্রত্যেকটা অপরাধ আমরা এড্রেস করতে পেরেছি, আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পেরেছি। আদালতে সোপর্দ করতে পেরেছি।

এর চাইতে এই অল্প সময়ের মধ্যে আর বেশি কিছু আশা করা মনে হয় ঠিক হবে না-উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারের ছয় মাস অতিক্রান্ত হয়েছে, এই দায়িত্ব নেয়ার পরে একটি ঘটনাও নাই, এমন কোনো অপরাধ নেই, যেটা সংগঠিত হওয়ার পরপরই পুলিশ বাহিনী সেটা গ্রেপ্তার করতে পারে নি বা বিচারের আওতায় আনে নি—একটি ঘটনাও নাই! এটাই বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের কৃতিত্ব।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশ্বে যদি আমরা ইসলামের শান্তির মহাবাণী অনুসরণ করি, তাহলে বিশ্বে কোনো যুদ্ধ-বিগ্রহ থাকে না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়, অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা হয় এবং সমাজে কোনো শৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটে না। কিন্তু আমরা সেই বাণী থেকে, সেই আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে গিয়েছি। আমাদের আজকের এই দিনে আমাদের নতুন করে অনুধাবন করতে হবে, যদি আমরা শান্তির পথে থাকি, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন-আদর্শকে অনুসরণ করি এবং মেয়ারে হক হিসেবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের জীবন-আদর্শকে আমরা অনুসরণ করি, তাহলে দেশে কোনো অশান্তি থাকবে না, বিশৃঙ্খলা থাকবে না, অসাম্য থাকবে না।

মন্তব্য করুন

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

খুলনায় স্বাস্থ্য কর্মসূচি পর্যালোচনা: জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকার শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

অদ্য ২৬/০৮/২০২৬ রোজ বধবার সকাল ১০ ঘটিকা হতে খুলনা বিভাগে এইচপিভি টিকা এবং ইপিআই কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভাগীয় কর্মশালা, যেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শতভাগ কাভারেজ নিশ্চিত করার নির্দ.. খুলনা হোটেল সিটি ইনে আয়োজিত দিনব্যাপী এই পর্যালোচনা কর্মশালায় খুলনা বিভাগের স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সভায় প্রধানত জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে কিশোরীদের জন্য নির্ধারিত এইচপিভি টিকার সফল বাস্তবায়ন এবং ইপিআই কর্মসূচির পরিধি বিস্তারের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১০ বছর বয়সী সকল কিশোরীকে এই টিকার আওতায় নিয়ে আসার যে জাতীয় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা কীভাবে খুলনা বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় শতভাগ সফল করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী দশ জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং শিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ এলাকার কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন, যা মূলত স্বাস্থ্যসেবার তৃণমূল পর্যায়ের সক্ষমতা ও বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ এবং ভুক্তভোগী ও লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর সচেতনতার অভাবকে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা জানিয়েছেন যে, এইচপিভি টিকা নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও তথ্যের ঘাটতি দূর করা না গেলে শতভাগ কাভারেজ অর্জন করা কঠিন। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র স্বাস্থ্য বিভাগের একক প্রচেষ্টায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল হওয়া সম্ভব নয়। তিনি মিডিয়ার ভূমিকা এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ইমামদের মাধ্যমে মসজিদের মুসল্লিদের অবহিত করলে টিকার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার অভাব বা গাফিলতি জনস্বাস্থ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তাই প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীকে আরও বেশি জবাবদিহিতার আওতায় আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।