কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সমন্বয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘Pubali Bank PLC Presents Jagannath University AI & IT Fest 2026’। রোববার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ সাজিদ ভবনের নিচে দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়। দেশের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়, ৪০টি টেক ক্লাব এবং হাজারো তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো প্রাঙ্গণ।
প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণদের একত্রিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নতুন ধারণা তুলে ধরার এক ব্যতিক্রমী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এই ফেস্ট। আয়োজক কমিটির সদস্য ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ সরককার জানান, ফেস্টে এআই, রোবোটিক্স, ইনোভেশন, প্রজেক্ট শোকেস ও অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ও প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে সংযোগ তৈরির লক্ষ্যে রয়েছে টেককেয়ার জোন, ইন্ডাস্ট্রি টক এবং লাইভ পিচ। এসব আয়োজনে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, শিল্পনেতা ও অভিজ্ঞ মেন্টররা অংশ নিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, এই ফেস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর ধারণা উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও টেক ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এক দারুণ সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও অংশগ্রহণ
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশ নেওয়া তরুণ উদ্ভাবকরা তাদের প্রকল্প নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত। ‘এডু সিঙ্ক’ প্রজেক্ট নিয়ে আসা ইউনিভার্সিটি অফ ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, গাজীপুরের প্রতিনিধি ইসরাত সাদিয়া বলেন, “আমাদের প্রজেক্টটি মূলত আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কাজ করবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ফেস্টে এসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবী মুখগুলোর উদ্ভাবন দেখার সুযোগ হয়েছে, যা আমাদের কাজের পরিধি ও আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।”
অন্যদিকে, ‘পেপারকোড’ প্রজেক্ট নিয়ে অংশ নেওয়া চিটাগং ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (চুয়েট)-এর প্রতিনিধি রেদওয়ান মাহমুদ জানান, “আমাদের প্রজেক্টটি কোডিং ও গবেষণাকে সহজ করার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এত বড় একটি প্ল্যাটফর্মে আমাদের আইডিয়াগুলো প্রেজেন্ট করতে পারা এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় মেন্টরদের ফিডব্যাক পাওয়াটা আমাদের জন্য একটি দারুণ অভিজ্ঞতা।”
অনুষ্ঠানের সার্বিক বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদদিন বলেন, “বর্তমান যুগ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগ। এই সময়ে শিক্ষার্থীদের কেবল গতানুগতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলে চলবে না, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এই এআই অ্যান্ড আইটি ফেস্ট আমাদের শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে এবং তাদের ভবিষ্যতের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত তরুণদের এই মিলনমেলা আমাদের ভীষণ আশাবাদী করে তুলেছে।”
দিনব্যাপী এই উৎসব কেবল একটি প্রযুক্তি প্রদর্শনী নয়; বরং এটি দেশের তরুণ উদ্ভাবক, প্রযুক্তিপ্রেমী শিক্ষার্থী এবং শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের এক সুতোয় গেঁথে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।




