রাজশাহীর পবা উপজেলায় ৯ বছরের এক কন্যাশিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওমর ফারুক নামের জামায়াতের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি একটি ওয়ার্ড জামায়াত রোকন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিন রাতে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
ইউনিয়ন জামায়াত আমীর আবদুর রহমান বলেন, ওমর ফারুক ওয়ার্ড পর্যায়ের রোকন। তার ভাই আবু বকর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি। ঘটনাটি দুই মাস আগের। দুই পরিবারের মধ্যে মীমাংসা হয়েছিল তখন। বিএনপির লোকজন বিষয়টি বড় করে পুলিশকে ডেকেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। নিজ বাড়ির সঙ্গে থাকা একটি ফার্মেসি পরিচালনার পাশাপাশি স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে শিশুদের প্রাইভেট পড়াতেন।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ১২ই জুলাই শিশুটি পড়তে গেলে কৌশনে অন্য শিক্ষার্থীদের বিদায় করা হয়। এসময় শিশুটিকে একা পেয়ে যৌন হয়রানি করেন ওমর ফারুক। পরে বাড়ি ফিরে শিশুটি মায়ের কাছে কান্নাকাটি করে ঘটনাটি জানায়।
বিষয়টি অভিযুক্তের বাবাকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন শিশুটির মা। তিনি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দেন। পরে এলাকায় জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাটি জানতে পারে এবং অভিযুক্তকে আটক করে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
দুই মাস আগে অভিযোগ ওঠার পরও সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ইউনিয়ন জামায়াত আমীর বলেন, তিনি বিষয়টি গতকালই জেনেছেন। দায়িত্বশীলদের জানানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মতিন গণমাধ্যমকে বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটির মা গতকাল রাতে থানায় এসে মামলা করেছেন । ওই মামলায় ওমর ফারুককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।